Animal Smuggling

কুনো জাতীয় উদ্যানে চোরাশিকারির গুলিতে চিতা শাবকের মৃত্যু! শরীর থেকে উদ্ধার ৫টি ছররা গুলি, তদন্তে বিশেষ টাস্ক ফোর্স

অস্ত্রোপচার করে পাঁচটি ছররা গুলি বের করা হয় শাবকটির শরীর থেকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনায় চোরাশিকারিদের যোগ থাকার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মধ্যপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৭

ভারতে চিতা পুনর্বাসন প্রকল্প শুরুর পর প্রথমবার চোরাশিকারির হামলায় মৃত্যু হল একটি চিতার। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ মাস বয়সি এক চিতা শাবকের। গত রবিবার আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসা চলাকালীন এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানে তার শরীরে একাধিক অজ্ঞাত বস্তুর সন্ধান মেলে। অস্ত্রোপচার করে পাঁচটি ছররা গুলি বের করা হয় শাবকটির শরীর থেকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনায় চোরাশিকারিদের যোগ থাকার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।

কুনো জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় মাদি চিতা নিরভার ১৯ মাস বয়সি পুরুষ শাবকটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার পাহাড়পুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে কুনোর পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রথম থেকেই চোরাশিকারিদের হামলা কিংবা কোনও বড় বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। চিকিৎসার সময় এক্স-রে পরীক্ষায় শাবকটির শরীরের বিভিন্ন অংশে অজ্ঞাত বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে জবলপুরের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জারি বিভাগে সিটি স্ক্যান করা হয়। তাতে দেখা যায়, ওই বস্তুগুলি শাবকটির অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি করেছে। অস্ত্রোপচারে তার শরীর থেকে পাঁচটি ছররা গুলি বের করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বন দফতর ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণ) ড. সমীতা রাজোরা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, চোরাশিকারিদের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে চিতা শাবকটির। যদিও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই হামলার প্রকৃত কারণ ও অভিযুক্তদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই মৃত্যুর ফলে ভারতে চিতার সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৫৮-তে। তার মধ্যে কুনো জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৫২টি চিতা। গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে রয়েছে চারটি এবং বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী টাইগার রিজার্ভে রয়েছে দুটি।

উল্লেখ্য, ভারতে শেষ নথিভুক্ত এশীয় চিতা হত্যার ঘটনা ১৯৪৭ সালের। মহারাজা রামানুজ প্রতাপ সিং দেও দেশের শেষ তিনটি এশীয় চিতাকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালে ‘প্রোজেক্ট চিতা’-র হাত ধরে ভারতে চিতা পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হয়। নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতা এনে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ২০টি চিতা ভারতে আনা হয়। সেই প্রকল্পের মধ্যেই চোরাশিকারির হামলায় চিতার মৃত্যুর অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল বন দফতরের। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


Share