Encounter

গুজরাতে ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যু অপহরণ-খুনে অভিযুক্তের! বমির অজুহাতে পুলিশ ভ্যান থামিয়ে ছুরি হামলার অভিযোগ, আহত ২ পুলিশকর্মী

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। ঘটনায় দুই পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গুজরাত
  • শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ০৩:০২

নাবালিকাকে অপহরণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের মৃত্যু হল পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’। সোমবার ভোরে গুজরাতের আনন্দ জেলায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পুলিশের ভ্যান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় ছুরি নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। ঘটনায় দুই পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

নিহত অভিযুক্তের নাম সুরেশ পারমার। গুজরাটের আনন্দ জেলার বাসাদ রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজের সন্ধানে কয়েক দিন আগে শিশুটির পরিবার বাসাদে এসে রেল স্টেশনেই অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিল। রবিবার রাতে আচমকাই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর কয়েক ঘণ্টা পরে তার দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটির উপর যৌন নির্যাতনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। তবে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।

নাবালিকার দেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনন্দ জেলার বরসাদ এলাকা থেকে অভিযুক্ত সুরেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় থানার পুলিশ প্রথমে তাঁকে আটক করে, পরে আনন্দ জেলার অপরাধদমন শাখার হাতে তুলে দেয়। অভিযোগ, ভোরে তদন্তের স্বার্থে সুরেশকে নিয়ে বরসাদ এলাকায় যাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সুরেশকে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আচমকা শরীর খারাপের ভান করেন। তিনি পুলিশকর্মীদের জানান, তাঁর বমি পাচ্ছে। এরপর পুলিশ ভ্যান থামিয়ে তাঁকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। অভিযোগ, সেই সুযোগেই সুরেশ একটি ছুরি বের করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর অতর্কিতে হামলা চালান। এই হামলায় দুই পুলিশকর্মী আহত হন। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তব্যরত সাব-ইনস্পেক্টর বারবার অভিযুক্তকে ছুরি ফেলে দিতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ না মানায় এবং হামলা অব্যাহত রাখায় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুরেশকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।


Share