Islamic Gym

জিম করতে হলে ইসলামের নিয়ম মেনে পোশাক পরতে হবে, বাজানো যাবে না কোনও সঙ্গীত, কেরলে ‘ইসলামবান্ধব’ জিম ঘিরে বিতর্ক

পাল্লাকাড়ের যেখানে জিমটি বানানো হয়েছে, সেটি কমিউনিস্ট সংগঠন এসডিপিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি। এসডিপিআই দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন পিএফআইয়ের শাখা সংগঠন।

এই পোস্টার ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১১:৪২

এ কেমন জিম! মহিলারা জিম করবেন। কিন্তু শরীরচর্চা করার নির্দিষ্ট পোশাক তাঁরা পরতে পারবেন না। ইসলামের নিয়ম মেনে তাঁদের জিমে আসতে হবে। জিম করার সময় কোনও সঙ্গীত বাজানো যাবে না। কেরলের পালাক্কাড়ে এমন জিম ঘিরে সমাজমাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। 

কেরলের পালাক্কাড় জেলার পুথুনাগারমে একটি জিমকে ঘিরে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জিম মালিকের দাবি, এই জিম ‘ইসলাম বান্ধব’। সম্প্রতি নওয়াজ মুথু টি নামে এক ব্যক্তি সামাজমাধ্যমে একটি প্রচারমূলক ভিডিয়ো পোস্ট করে। দাবি করা হয়, এই জিমটিতে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে যেখানে ‘ফিটনেসের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়’ ঘটানো হবে। তাদের এ-ও দাবি ছিল, এটি কেরলের প্রথম “ইসলামবান্ধব” জিম যেখানে শরীরচর্চার সঙ্গে ধর্মীয় সমন্বয় ঘটানো হবে।

বিতর্কিত জিমের নিয়মাবলী অনুযায়ী, যাঁরা সেখানে শরীরচর্চা করতে আসবেন তাঁদের পোশাক-পরিচ্ছদ ইসলামের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ইসলামের নিয়ম মেনে পুরুষ ও মহিলাদের শরীরের যে অংশ আবৃত রাখা আবশ্যক, তা ঢেকে রাখতে হবে। মহিলারা জিম করতে এলে হিজাব-সহ পূর্ণাঙ্গ পোশাক পরার কথা বলা হয়েছিল। এমনকী, মহিলারা নিজের পছন্দমতো জিম পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে না বলেও জানানো হয়।

এ ছাড়াও, সেখানে পুরুষ ও মহিলাদের একসঙ্গে শরীরচর্চা করার কোনও অনুমতি থাকবে না। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি জিমে কোনও ধরনের সঙ্গীত বাজানো যাবে না বলেও তাতে উল্লেখ করা হয়। ইসলাম বাদে অন্য ধর্মের মানুষও ওই জিমের সদস্য হতে পারবেন। তাঁদেরকেও ইসলামের নিয়ম মেনে চলতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। জিমে শরীরচর্চা করতে আসা কেউ কোনও সঙ্গীত চালাতে পারবেন না। যদি শুনতে হয় তাহলে হেডফোন ব্যবহার করতে হবে। 

ভিডিয়োটি প্রকাশের পর সামাজমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ে। চাপের মুখে পড়ে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। জানা গিয়েছে, ওই জিমটি প্রায় ১৫ বছর ধরে চালু ছিল। জিমের মালিকের দাবি, বর্তমানে জিমটি সংস্কারের কাজ চলছে। তা নতুন ভাবে চালু করা পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাল্লাকাড়ের যেখানে জিমটি বানানো হয়েছে, সেটি কমিউনিস্ট সংগঠন এসডিপিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি। এসডিপিআই দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন পিএফআইয়ের শাখা সংগঠন। দীর্ঘদিন কমিউনিস্টরা কেরল শাসন করেছে। ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর কারবারিরা মূলত একটি ধর্মীকে গোঁড়ামি বলে দাবি করে। কিন্তু অপর একটি ধর্মের বেলায় কার্যত মুখে আঁটেন বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। 

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একপক্ষ এটিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশেষ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে, অন্যপক্ষ মনে করছে এটি সমাজে ধর্মভিত্তিক বিভাজনকে উৎসাহিত করতে পারে।


Share