Technology

ইন্টারনেট বন্ধ, তবুও থামেনি যোগাযোগ! দিল্লির আন্দোলনে ব্লুটুথ-ভিত্তিক অফলাইন অ্যাপের ব্যবহার ঘিরে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

তদন্তে জানা গিয়েছে, এমন কিছু মেসেজিং অ্যাপ রয়েছে, যা ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও বিকল্প প্রযুক্তির সাহায্যে চ্যাট করার সুযোগ দেয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৫:১৬

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। তবুও চলছে বার্তা আদানপ্রদান! দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা নেটওয়ার্ক না থাকলেও বিশেষ কিছু অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস, যন্তর মন্তরের মতো এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলেও কীভাবে বার্তা আদানপ্রদান সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তদন্তে জানা গিয়েছে, এমন কিছু মেসেজিং অ্যাপ রয়েছে, যা ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও বিকল্প প্রযুক্তির সাহায্যে চ্যাট করার সুযোগ দেয়।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ ব্লুটুথ-ভিত্তিক অফলাইন মেসেজিং পরিষেবা দেওয়া কিছু অ্যাপের দিকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছোনো যায়নি এবং তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, হোয়াটসঅ্যাপ, সিগনাল বা টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করতে মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই সংযোগ প্রয়োজন হয়। কিন্তু অফলাইন মেসেজিং অ্যাপগুলি ‘ব্লুটুথ লো এনার্জি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ছাড়াই কাছাকাছি থাকা ডিভাইসগুলির মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করতে পারে। এই প্রযুক্তি বর্তমানে অধিকাংশ আধুনিক স্মার্টফোনেই উপলব্ধ। এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে, যেগুলি নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধভাবে কাজ করে, আবার কিছু অ্যাপ তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর পরিসরেও ব্যবহৃত হয়।

অফলাইন মেসেজিং অ্যাপের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি বিটচ্যাট। টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অ্যাপটি প্রকাশ করেন। ইতিমধ্যেই গুগল প্লে স্টোরে এটি ১০ লক্ষেরও বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে। বিটচ্যাট ব্যবহারের জন্য কোনও অ্যাকাউন্ট খোলা, ফোন নম্বর দেওয়া বা কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার প্রয়োজন হয় না। ব্লুটুথ-ভিত্তিক মেশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ছাড়াই ব্যবহারকারীরা বার্তা আদান-প্রদান করতে পারেন। তবে শুধু বিটচ্যাটই নয়, অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে একই ধরনের আরও কয়েকটি অফলাইন মেসেজিং অ্যাপও রয়েছে।

দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ধরনের অ্যাপের পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট অ্যাপের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিভাইস রেকর্ড (আইপিডিআর) খতিয়ে দেখছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিরও ব্যবহার করছেন। উল্লেখ্য, হংকং, ইউক্রেন ও নেপাল-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের নজির রয়েছে। শুধু বিক্ষোভই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এসব অ্যাপ অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


Share