Delhi Dhaka Reset

দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠাতে পারে ভারত সরকার! ভোটের আবহে বড় কূটনৈতিক চাল দিল্লির

এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূলের মুখ ছিলেন দীনেশ। কিন্তু ২০১৬ সালের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৩৪

রবিবাসরীয় সকালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আবহেই দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক জল্পনা। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের ভারত সরকার বাংলাদেশের জন্য ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ করতে পারে দীনেশ ত্রিবেদীকে।

এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূলের মুখ ছিলেন দীনেশ। কিন্তু ২০১৬ সালের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।

গুজরাতি ব্যবসায়ী পরিবার থেকে উঠে এলেও দীনেশ ত্রিবেদী সাবলীলভাবে বাংলা বলতে পারেন। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্বে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণত এমন পদে অভিজ্ঞ আইএফএস আধিকারিকদেরই পাঠানো হয়, কিন্তু এবার রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কাউকে বেছে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।

বর্তমানে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন প্রণয় ভার্মা। জানা গিয়েছে, তাঁকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে পাঠানো হতে পারে। তাঁর জায়গাতেই দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিতে পারেন।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রশাসনিক বদল নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন, বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার পর তৈরি হওয়া আস্থার ঘাটতি এই প্রেক্ষাপটে দিল্লি রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও সরাসরি নেতৃত্বের সঙ্গে সংযুক্ত একজন মুখকে পাঠাতে চাইছে।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক গত এক দশকে স্থিতিশীল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কিছু কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর সম্ভাব্য নিয়োগকে অনেকেই দেখছেন সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার উদ্যোগ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, এই পদক্ষেপকে প্রতিবেশী কূটনীতিতে ভারতের নতুন কৌশলের ইঙ্গিত হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


Share