Narendra Modi

ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে নতুন অধ্যায়! ইউরেনিয়াম সরবরাহে সবুজ সংকেত, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় একাধিক বড় চুক্তি, বাড়ছে কোয়াডের শক্তি

অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘আজ আমরা পারমাণু শক্তিক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এটি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ খুলে দেবে এবং আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচিতে নতুন গতি আনবে।’’

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, অষ্ট্রেলিয়া
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৫:৫৮

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা, অত্যাবশ্যকীয় খনিজ সরবরাহ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি এ বার ভারতে ইউরেনিয়াম রফতানির উদ্যোগ নিল অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, পরমাণু শক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মেলবোর্নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ইউরেনিয়াম রফতানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই চুক্তিগুলি সই হয়। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি, ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘আজ আমরা পারমাণু শক্তিক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এটি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ খুলে দেবে এবং আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচিতে নতুন গতি আনবে।’’

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো-প্যাসিফিক) অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলায় কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করা। বেজিংকে ‘পাখির চোখ’ করে ২০০৭ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে ‘কোয়াড’ গঠিত হয়েছিল। এই জোটের সদস্য ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং আমেরিকা। ২০২০ সালে লাদাখে ভারত-চিন সংঘাতের পর ভারত মহাসাগরে অনুষ্ঠিত ‘অপারেশন মালাবার’ নৌ-মহড়ায় অস্ট্রেলিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়ে কোয়াডভিত্তিক সামরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছিল নয়াদিল্লি। পাশাপাশি, গত মাসে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ‘জয়েন্ট মেরিটাইম সিকিউরিটি কোলাবরেশন রোডম্যাপ’-ও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (ইন্দো-প্যাসিফিক) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকা। এই অঞ্চলের প্রধান সমুদ্রপথগুলির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়, যা এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে ইউরোপ, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করে। গত মে মাসে প্রকাশিত ‘কোয়াড’-এর যৌথ বিবৃতিতে দক্ষিণ ও পূর্ব চিন সাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক দাবিকে ঘিরে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়।

অন্য দিকে, ২০২০ সালে ‘কোভিড-১৯’-এর উৎস সম্পর্কে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তোলার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া ও চিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এ দিকে, ভারতীয় উপমহাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করেছে চিন। ‘হর্ন অব আফ্রিকা’র জিবুতি, পাকিস্তানের গ্বদর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা এবং মায়ানমারের কিয়াউকপিউ এই সব বন্দর চিনের কৌশলগত উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ নীতির আওতায় গড়ে ওঠা এই বন্দর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চিন এমন সব সামুদ্রিক রুটে প্রভাব বিস্তার করেছে, যা অস্ট্রেলিয়াসহ বহু দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমী সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ এবং ‘চায়না-পাকিস্তান ইকনমিক করিডর’-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে চিন ধীরে ধীরে ভারতকে কৌশলগতভাবে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে, যা গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার অন্যতম বিষয়।


Share