Nepal Flash Flood

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে ৬২৬ মৃত্যু, নিখোঁজ প্রায় দু'হাজার! বিপর্যস্ত প্রতিবেশীর পাশে ভারত, দিল্লিকে ধন্যবাদ নেপাল প্রেসিডেন্টের

তিনি বলেন, “২৬ আগস্ট, ২০২৬-এর দুর্যোগে ভারতীয় নাগরিকদের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক শোক ও গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি।”

নেপালের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পথে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৯

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬২৬। এখনও নিখোঁজ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পরিস্থিতিতে ভারত প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির ‘সংহতি ও সহায়তা’র জন্য নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পোড়েল এ বার ভারতকে ধন্যবাদ জানালেন। রামচন্দ্র পোড়েল বলেন, ‘‘নেপালের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, নেপালে সাম্প্রতিক দুর্যোগের পর আপনাদের উদ্বেগ এবং আপনার সরকারের উদার সহায়তা ও সংহতি প্রদর্শনের জন্য।" একই সঙ্গে নেপালে মৃত ভারতীয় নাগরিকদের ঘটনায় ভারতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “২৬ আগস্ট, ২০২৬-এর দুর্যোগে ভারতীয় নাগরিকদের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক শোক ও গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি।” উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছিলেন, “ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপাতত বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন নেই।” পরবর্তী সময়ে অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত বদল করে প্রতিবেশী দেশটি।

বুধবারের ভয়াবহ হড়পা বানের ধাক্কা সামলে নেপাল স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই তিব্বতে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে আগের বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের হড়পা বানের আতঙ্কে নেপাল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাসুয়া ও ধাদিং জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। হড়পা বানের আশঙ্কায় উদ্ধারকাজও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ দিকে চীন বিপর্যস্ত নেপালকে সতর্ক করেছে। বেজিংয়ের আশঙ্কা, লেন্ডে নদীর অববাহিকার উজানে তৈরি হওয়া হ্রদটির পাড় যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। হ্রদের জলের রং পরিবর্তন হওয়ায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। তবে বেজিংয়ের দাবি, হ্রদটি ভেঙে গেলেও নদীতে জলের সর্বোচ্চ প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটারের বেশি হবে না।


Share