Donald Trump

ভারত-পাক সংঘর্ষ থামাতে ২৫০% শুল্কের হুঁশিয়ারি! ‘আমার কথাতেই যুদ্ধ বন্ধ’, ফের দাবি ট্রাম্পের

শুক্রবার ফ্লরিডায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাণিজ্যিক চাপের মুখেই সংঘর্ষ বন্ধ করতে রাজি হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৪

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ থামাতে দুই দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। সেই হুমকির জেরেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের সংঘাত থেমেছিল বলে ফের দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লরিডায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাণিজ্যিক চাপের মুখেই সংঘর্ষ বন্ধ করতে রাজি হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

ট্রাম্পের কথায়, ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, লড়াই বন্ধ না করলে আমেরিকার সঙ্গে কোনও বাণিজ্য করা যাবে না। দুই দেশের উপরেই ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই হুমকিতেই কাজ হয়েছিল এবং সংঘর্ষ থামাতে সম্মত হন দুই দেশের নেতৃত্ব।

২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ মে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক সংঘর্ষের সময় ১১টি বিমান ধ্বংস হয়েছিল বলেও এ দিন ফের দাবি করেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ৭ মে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। এর পরেই দু’দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেই সময় থেকেই সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তবে নয়াদিল্লি কখনওই তাঁর এই দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি। ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তানের তরফেই সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব এসেছিল। ১০ মে ২০২৫-এ ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের ডিজিএমও ভারতীয় ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষবিরতির অনুরোধ করেছিলেন। এর পরেই স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়।

অন্য দিকে, ওই দিনই আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সময় আমেরিকার কূটনৈতিক তৎপরতার তথ্য সামনে এলেও, ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিই সংঘর্ষবিরতির নির্ণায়ক কারণ ছিল, এমন প্রমাণ নেই।

লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জানিয়েছিলেন, কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতার হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ থামেনি। ভারতের দাবি, পাকিস্তানই সংঘর্ষবিরতি চেয়েছিল এবং নয়াদিল্লি তাতে সম্মতি জানিয়েছিল। তবে সেই অবস্থানের পরেও বারবার নিজের মধ্যস্থতার কৃতিত্ব দাবি করে চলেছেন ট্রাম্প। এবার ফ্লরিডার নির্বাচনী সভা থেকে ফের সেই দাবিই সামনে আনলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।


Share