ISRO

এ বার আমেরিকার জিপিএসের উপর নির্ভরতা কমবে ভারতের! মহাকাশে সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩, স্মার্টফোনে আরও নিখুঁত হবে লোকেশন ও সময় গণনা

দেশের নিজস্ব দিকনির্ণয়কারী ব্যবস্থা ‘নাভিক’-কে আরও উন্নত করতে মহাকাশে অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।

জিএসএলভি রকেটের সাহায্যে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শ্রীহরিকোটা
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫১

আমেরিকার জিপিএস ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব নেভিগেশন প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার পথে বড় পদক্ষেপ করল ভারত। দেশের নিজস্ব দিকনির্ণয়কারী ব্যবস্থা ‘নাভিক’-কে আরও উন্নত করতে মহাকাশে অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি রকেটের সাহায্যে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইট। ইসরোর বিজ্ঞানীদের আশা, এই উপগ্রহের হাত ধরে দিকনির্ণয়, অবস্থান নির্ধারণ এবং সময় গণনার ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতাও অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।

স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের পর শনিবার সকালে ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী শক্তি দেশকে গর্বিত করে চলেছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এনভিএস-০৩ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সুফল পাবেন সাধারণ মানুষও।

বর্তমানে স্মার্টফোনে ম্যাপ ব্যবহার, কোনও নির্দিষ্ট জায়গার অবস্থান খুঁজে বের করা কিংবা সময় নির্ধারণের মতো একাধিক ক্ষেত্রে উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হয়। এই ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার জিপিএস ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল ভারত-সহ বিশ্বের বহু দেশ। সেই নির্ভরতা কমাতেই নিজস্ব ‘নাভিক’ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরো।

নতুন এনভিএস-০৩ উপগ্রহে রয়েছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রুবিডিয়াম অ্যাটমিক ক্লক বা পারমাণবিক ঘড়ি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে উপগ্রহটি এল১, এল৫ এবং এস—এই তিনটি ব্যান্ডে সঙ্কেত পাঠাতে পারবে। বিশেষ করে এল১ ব্যান্ডের সঙ্গে আধুনিক স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের চিপের সরাসরি সামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষও আরও নির্ভুল অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন। পাশাপাশি সময় গণনার ক্ষেত্রেও বাড়বে নির্ভুলতা।

শুধু দিকনির্ণয় নয়, দেশের নিজস্ব সময় গণনা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে এই উপগ্রহ। আমেরিকার জিপিএস-নির্ভর সময় গণনার বিকল্প হিসেবে সম্পূর্ণ দেশীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই গুয়াহাটি, ভুবনেশ্বর, বেঙ্গালুরু, অহমদাবাদ ও ফরিদাবাদের পাঁচটি রিজিওনাল রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড ল্যাবরেটরিতে জাতীয় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেকেন্ডারি টাইম-স্কেল তৈরি করা হয়েছে। এনভিএস-০৩-এর মতো উপগ্রহ এই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও নির্ভুল করে তুলতে সাহায্য করবে।

প্রায় ২২৫০ কিলোগ্রাম ওজনের এনভিএস-০৩ হল ইসরোর পরবর্তী প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। অন্য দিকে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে জিএসএলভি রকেটের সফল উড়ানের সংখ্যা দাঁড়াল ২০। সব মিলিয়ে, নিজস্ব নেভিগেশন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করল এই অভিযান।


Share