LPG

পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরতায় বড় কাটছাঁট! আমেরিকা থেকে দ্বিগুণ এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত দিল্লির, ভূরাজনৈতিক সঙ্কট সামলাতে বদল জ্বালানি কৌশল

তবে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলপিজি বোঝাই একাধিক জাহাজ আটকে পড়ে। সেই পরিস্থিতির পরই আমদানি কৌশলে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে শুরু করে ভারত।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ১২:৩২

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি। এতদিন ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসত ওই অঞ্চল থেকে। তবে ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলি (ওএমসি) এবার আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলজেরিয়া-সহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও আলোচনা চালানো হচ্ছে।

আমেরিকা থেকে বছরে প্রায় ২২ লক্ষ টন এলপিজি আমদানি করে ভারত। এ বার সেই পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আমেরিকার সঙ্গে এক বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ আমেরিকা থেকেই আমদানি করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলপিজি বোঝাই একাধিক জাহাজ আটকে পড়ে। সেই পরিস্থিতির পরই আমদানি কৌশলে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে শুরু করে ভারত।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে সঙ্কটের সময় ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল আমেরিকা। সেই সময় আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি করে দেশের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করেছিল দিল্লি। এরপরই আমেরিকা থেকে আরও বেশি পরিমাণে রান্নার গ্যাস কেনার কৌশল নেয় কেন্দ্র। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনই ভবিষ্যতে ভূরাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দিলে পর্যাপ্ত গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করাও সহজ হবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির আট শতাংশেরও কম এসেছিল আমেরিকা থেকে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সেই হার বেড়ে ১২ শতাংশে পৌঁছোয়। ফেব্রুয়ারিতে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৩ শতাংশ। মার্চে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হতেই আমদানির ছবিতে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ওই মাসে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির ৩৭ শতাংশই আসে আমেরিকা থেকে। এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ৪০ শতাংশ, মে মাসে ৫৫ শতাংশ এবং জুনে রেকর্ড ৬৫ শতাংশে পৌঁছে যায়।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় কোনও সমস্যা না হলেও, এলপিজি আমদানি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁর কথায়, পশ্চিম এশিয়ার বাইরে রান্নার গ্যাস রফতানিকারক দেশের সংখ্যা সীমিত। সেই কারণে সরবরাহের ঝুঁকি কমাতে আমেরিকার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া এবং মালয়েশিয়া থেকেও এলপিজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে দিল্লি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংঘাত বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।


Share