Drown at Water

পুজোর শেষবেলায় বিষাদের ছায়া! রাজস্থানে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন করতে গিয়ে উল্টে গেল নৌকা, তলিয়ে গেলেন চার জন

চম্বল নদীর অংশ এই খালে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়েছিলেন কয়েক জন। একটি নৌকায় প্রতিমা নিয়ে সাত জন খালে নামতেই আচমকা উল্টে যায় সেটি। কোনও রকমে তিন জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তলিয়ে যান বাকি চার জন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজস্থান
  • শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:১৬

পুজোর শেষবেলায় আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল বিষাদে। দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন করতে গিয়ে নৌকা উল্টে নিখোঁজ হলেন চার জন। মঙ্গলবার রাতে রাজস্থানের কোটায় স্টিল ব্রিজের কাছে কোতরি খালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চম্বল নদীর অংশ এই খালে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়েছিলেন কয়েক জন। একটি নৌকায় প্রতিমা নিয়ে সাত জন খালে নামতেই আচমকা উল্টে যায় সেটি। কোনও রকমে তিন জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তলিয়ে যান বাকি চার জন। তাঁদের খোঁজে রাতেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ।

মঙ্গলবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে দশমী তিথি। এই দিনেই ঘাটে ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদোৎসব। বহু জায়গায় মঙ্গলবার রাতেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। সেই মতো কোটার স্টিল ব্রিজের কাছে কোতরি খালে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন করতে গিয়েছিলেন একটি দল। কিন্তু ওই খালে প্রতিমা বিসর্জনের অনুমতি নেই বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাজস্থানের মন্ত্রী মদন দিলাওয়ার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই ক্যানাল চত্বর প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য নির্ধারিত নয়। এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশও রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে মন্ত্রীর নির্দেশে রাতেই উদ্ধারকাজে নামে জেলাপ্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা কালেক্টর পীযূষ সামারিয়া এবং সিটি এসপি তেজস্বিনী গৌতম। উদ্ধারকাজে নামানো হয় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বাহিনীকে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৭ জন এসডিআরএফ কর্মী, পুরসভার ডুবুরি, সিভিল ডিফেন্স টিম এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। নিখোঁজ চার জনের সন্ধানে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়।

সিটি এসপি তেজস্বিনী গৌতম জানান, প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য কয়েক জন ক্যানাল রোডে এসেছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। তাঁদের নৌকায় সাত জন ছিলেন। নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর তিন জন সাঁতার কেটে নিরাপদে উঠে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু বাকি চার জন সাঁতার জানতেন না। তাঁদের উদ্ধারে নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসনের দল। নৌকায় থাকা কয়েক জনের নামও পাওয়া গিয়েছে বলে জানান তিনি।

এসপি আরও বলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য প্রশাসনের তরফে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে নৌকা, ডুবুরি এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রাখা হয়। কিন্তু গোটা খালের প্রতিটি জায়গায় একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব নয়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে নির্ধারিত স্থানেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।


Share