Election Commission

ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিস, রাজ্যসভায় ৭৩ সাংসদের স্বাক্ষর

রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ শুক্রবার সমাজমাধ্যমে জানান, এই নোটিসটি রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৯টি নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সেই অভিযোগগুলির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণও রয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৬

ফের দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিশ জমা পড়েছে। এ বার রাজ্যসভায় ৭৩ জন সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নোটিস পেশ করা হয়েছে।

রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ শুক্রবার সমাজমাধ্যমে জানান, এই নোটিসটি রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৯টি নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সেই অভিযোগগুলির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। রমেশের দাবি, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ন'টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সবিস্তার প্রমাণ রয়েছে। তাই এগুলো অস্বীকার করা যাবে না। বা দায় এড়়িয়ে চলে যাওয়া যাবে না।”

এর আগে গত ১২ মার্চ সংসদের দুই কক্ষে তাঁকে অপসারণের দাবি জানিয়ে নোটিস জমা পড়েছিল। কিন্তু সেই নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ ওই নোটিস খারিজ করে দেন। সেই নোটিসে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদেরা সই করেছিলেন।

উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। এই পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনতে হলে কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। এর আগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জমা দেওয়া নোটিসে মোট ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করেছিলেন। তবুও তা কোনও কক্ষেই আলোচনার জন্য গৃহীত হয়নি। এরপরই দ্বিতীয়বার নোটিস আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সম্প্রতি মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিল লোকসভায় পাশ করাতে না পারার পর বিরোধী শিবির আরও সক্রিয় হয়েছে। সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, পাঁচ রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীনই রাজ্যসভায় ফের এই ইমপিচমেন্ট নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রথম নোটিসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ। পাশাপাশি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও ওঠে। এছাড়া নিয়োগ প্যানেলের বৈঠকে রাহুলের দেওয়া ‘ডিসেন্ট নোট’-এর কথাও উল্লেখ ছিল। এমনকি ভোটে কারচুপি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।


Share