North Bengal Alert

সিকিমে দাবানলের প্রভাব, সতর্ক উত্তরবঙ্গ, কার্শিয়াং-এ জোরদার ফায়ার লাইনিং, খোলা কন্ট্রোল রুম

জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পড়ে থাকা শুকনো পাতা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। কোথাও আবার সেগুলি জড়ো করে নিয়ন্ত্রিতভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, যাতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে। আগুন প্রতিরোধ ও নেভানোর জন্য বনকর্মীদের হাতে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি থাকায় তাঁদের বিশেষ সুরক্ষা-পোশাকও দেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিকিম
  • শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:২৭

সিকিমের বনাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে সতর্ক উত্তরবঙ্গ। নিজেদের এলাকার জঙ্গল রক্ষায় তড়িঘড়ি ফায়ার লাইনিংয়ের কাজে নেমেছে কার্শিয়াং বন বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্শিয়াংয়ের ডাউহিল এলাকায় এই কাজ শুরু হয়েছে।

জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পড়ে থাকা শুকনো পাতা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। কোথাও আবার সেগুলি জড়ো করে নিয়ন্ত্রিতভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, যাতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে। আগুন প্রতিরোধ ও নেভানোর জন্য বনকর্মীদের হাতে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি থাকায় তাঁদের বিশেষ সুরক্ষা-পোশাকও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন বনাঞ্চলের প্রতিটি অংশ ঘুরে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বনকর্মীদের। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বনবস্তি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা যাতে আগুন দেখলেই দ্রুত খবর দিতে পারেন, তার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (০৩৫৩-২২৫০৪৫৩) চালু করা হয়েছে।

কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানান, 'শীতের শেষে ফরেস্ট ফায়ার বনাঞ্চলের জন্য ভীষণ বিপদের ব্যাপার। এ জন্য কেবল জঙ্গলের গাছই পোড়ে না, বন্য জীবজন্তুর প্রাণসংশয় হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, জঙ্গলে নানা ধরনের কীটপতঙ্গ থাকে, যার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই সমস্ত ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার সমস্ত বনাঞ্চলে একই ধরনের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। নেওড়া ভ্যালি, কালিম্পং বনাঞ্চল, সিঞ্চল, সিঙ্গালিলা এবং মহানন্দা অভয়ারণ্যেও ফায়ার লাইনিং ও শুকনো পাতা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে সিকিমে দাবানলের প্রকোপ মারাত্মক আকার নিয়েছে। গত বছর দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় শিলিগুড়ি শহর ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল, বেড়েছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যা। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না-হওয়াই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

এ বছর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত নভেম্বর থেকে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। ঝোরাগুলির জলস্তর কমে যাওয়ায় পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বনাগ্নির আশঙ্কা। জিটিএ-র তরফে ঝোরা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর অনিমেষ বসুর মতে, 'বনাঞ্চলে আগুন ঠেকাতে হলে ফায়ার লাইনিংই একমাত্র উপায়। গত তিন মাস ধরে বৃষ্টি নেই। ফলে সিকিমের ঘটনার পরে দ্রুত এই কাজে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার সমস্ত বনকর্মীদের নামানো দরকার।'


Share