CRPF

‘নির্ভয়ে নিজের কর্তব্য পালন করুন, দায়িত্ব আমার,’ বাহিনীকে বার্তা সিআরপিএফের ডিজির

বাহিনীকে নির্ভিক ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ডিজি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি এই কথা জানান। দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বাহিনী।

সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০২:১৭

নির্ভয় নিজের কর্তব্য পালন করুন। বাহিনী যে পদক্ষেপ করবে তার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীগুলির মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম বাহিনী কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা সিআরপিএফ। বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এমনটাই জানালেন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ। সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি বাহিনীর জওয়ানদের ‘নির্ভীক ভাবে’ কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকান্ডের প্রতিবাদে দেশের রাজধানী উত্তপ্ত হয়েছিল। পুলিশকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুর, পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। তা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সিআরপিএফের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী ইউনিট— র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের জওয়ানদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। এমনকী, র‍্যাফের জওয়ানদের বিরুদ্ধে তথাকথিত বিক্ষোভকারীদের ওপরে পেলেট গান ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছিল। দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাত্রদের ওপরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিল। সমাজমাধ‍্যমে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

সেই ঘটনার কয়েক দিন পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বাহিনীকে নির্ভীক ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সিআরপিএফের  ডিজি হিসেবে আমি আপনাদের প্রত্যেককে আশ্বস্ত করতে চাই— অপারেশনাল ব্যাটালিয়ন হোক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিট, কর্তব্য পালনের সময় আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন। যে পদক্ষেপ আপনারা করবেন, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নেব।”

ডিজির স্পষ্ট বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা যাবে না। তাই বাহিনীতে যে যার দায়িত্ব পালন করবেন। যেখানে দায়িত্ব বা জবাবদিহির প্রয়োজন হবে তার দায়িত্ব জ্ঞানেন্দ্র নিজেই নেবেন। এর একদিন আগেই তিনি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে র‍্যাফের পদক্ষেপের বিষয়ে পেশাদারিত্ব মূল্যায়ন করা হবে।

সিআরপিএফের অধীনস্থ র‍্যাফ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম পরিচালনা এবং অশান্তি মোকাবিলা করার জন‍্য বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত। সিআরপিএফের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি অনুযায়ী, প্রতিটি বড় অভিযানের পর এ ধরনের মূল্যায়ন করে বাহিনী। এই মূল্যায়নে খতিয়ে দেখা হয়, কোন পরিস্থিতিতে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল, এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হল যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করতে হল। পাশাপাশি পেলেট গানের ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও প্রোটোকল অনুযায়ী ছিল কি না তা মূল্যায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য, সারা দেশে কার্যরত সিআরপিএফ বিভিন্ন ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ এবং রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বিত ভাবে কাজ করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজ্য প্রশাসনের কাছেও এই বাহিনী একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে পরিচিত। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র জঙ্গি দমন এবং মাওবাদী দমন অভিযানে সিআরপিএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাহিনীর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট কোব্রা গেরিলা ও জঙ্গলযুদ্ধ পরিচালনায় অত‍্যন্ত দক্ষ। সিআরপিএফকে প্রায়শই এমন কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ভুলের সুযোগ প্রায় থাকে না।

গত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মণিপুরের জিরিবাম জেলায় অসম সীমান্ত সংলগ্ন একটি গ্রামে হামলার ঘটনায় সিআরপিএফের অভিযানে ১০ জন সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গি নিকেশ হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কুকিদের দাবি, নিহতরা নাকি “স্বেচ্ছাসেবক”, তবে পুলিশের বক্তব্য ছিল, তারা সশস্ত্র জঙ্গি ছিল।


Share