Accident

টানা বর্ষণে জলমগ্ন হায়দরাবাদ, শহর জুড়ে ভয়াবহ যানজট, জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ২ জনের

তেলঙ্গানা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে বিনায়ক নগরে, যেখানে ৯৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেগমপেটে ৮৭.৫ মিলিমিটার, অম্বরপেটে ৭৯.৮ মিলিমিটার এবং সেকেন্দ্রাবাদে ৭৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।

জলমগ্ন হায়দরাবাদ
নিজস্ব সংবাদদাতা, হায়দরাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৫:৩৯

বর্ষার প্রবল দাপটে বিপর্যস্ত হায়দরাবাদ। মঙ্গলবারের টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। একাধিক রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়, তৈরি হয় যানজট। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার জেরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এই আবহেই ঘটে দুর্ঘটনা। হায়দরাবাদের বান্দলাগুড়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই ব্যক্তির। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম জাফর ও আবু। মঙ্গলবার বৃষ্টির মধ্যে অটো থেকে নামার সময় রাস্তার জমা জলের মধ্যে পা দেন তাঁরা। সেই জলের মধ্যেই ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তার ছিল বলে অভিযোগ। তা দেখতে না পাওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সারাদিন ধরে হায়দরাবাদের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোথাও কোথাও ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তেলঙ্গানা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে বিনায়ক নগরে, যেখানে ৯৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেগমপেটে ৮৭.৫ মিলিমিটার, অম্বরপেটে ৭৯.৮ মিলিমিটার এবং সেকেন্দ্রাবাদে ৭৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই শহরের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি শুরু হয় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। টানা বৃষ্টিতে গাছিবলি, কোণ্ডাপুর, রায়দুর্গ, হাইটেক সিটি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জল জমে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বহু অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকেন। এমনকি জরুরি পরিষেবার যান, বিশেষ করে অ্যাম্বুল্যান্সও যানজটের কারণে সমস্যার মুখে পড়ে।

এ দিকে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে জলমগ্ন রাস্তা ও দীর্ঘ যানজটের একাধিক ছবি ও ভিডিয়ো। এক্স হ্যান্ডেল-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে অনেকেই শহরের পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্ষার শুরুতেই যদি এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আগামী দিনে আরও বড় সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত জলনিকাশি ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থার উন্নতির দাবিও তুলেছেন শহরবাসী।


Share