Pok Election

রক্তাক্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচন, দেদার ছাপ্পা, সংঘর্ষে মৃত এক জন, জখম একাধিক

পিপিপি-র দলীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিএমএল-এন সমর্থকেরা গুলি করে তাদের কর্মীকে খুন করেছে। পিপিপি-র চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোথায়? নির্বাচন কমিশন কী করছে?”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাশ্মীর
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১২:৫২

রক্তাক্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের তথাকথিত আইনসভা নির্বাচন। প্রথম দফার ভোটে ঝড়ল রক্ত। একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় একাধিক ভোটার জখম হয়েছেন। অনেক ভোটার নিজের ভোট দিতে পারেননি।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তথাকথিত আইনসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে সোমবার একাধিক কেন্দ্রে হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। কয়েক জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। দেদার ছাপ্পা ভোট পড়েছে। আসিম মুরিরের সেনার মদতে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন।

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের একটি অংশ পাকিস্তান অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছে। সেখান কার তথাকথিত আইনসভার নির্বাচন ২৭ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট চলবে। মোট তিন দফায় ভোটগ্রহণ হবে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) অভিযোগ, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর সমর্থকেরা গুলি চালিয়েছেন। এর ফলে তাদের কর্মী মুকতার ইউনুস গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। আরও দু’জন ঘটনায় জখম হয়েছে।

পিপিপি-র দলীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিএমএল-এন সমর্থকেরা গুলি করে তাদের কর্মীকে খুন করেছে। পিপিপি-র চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোথায়? নির্বাচন কমিশন কী করছে?”

তথাকথিত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় এবং আটটি আসন মহিলা, প্রযুক্তিবিদ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। পিপিপি এবং পিএমএল-এন উভয় দলই একাধিক আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ করেছে। দেদার ছাপ্পা ভোট হয়েছে। সমাজমাধ‍্যমে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের ভিতরে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বচসা হয়েছে। এর জেরে কিছু ভোটগ্রহণও ব্যাহত হয়েছে।

ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এই নির্বাচন বয়কট করেছে। অন্য দিকে, জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পিটিআই-এর দাবি, গত মাসে জেএএসি-এর আন্দোলনের পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রায় ৫০ দিন জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। হিংসার ঘটনায় ১০০-রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। জেএএসি প্রধান দাবি ছিল ১২টি শরণার্থী আসন বাতিল করতে হবে। তবে সরকার সেই দাবি মানতে অস্বীকার করেছে। পরবর্তীতে হিংসার সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পর গত মাসে জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের এই বিক্ষোভ ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ এবং প্রশাসনিক দমন-পীড়নের ফল। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের ওপরে পুলিশের কথিত বর্বরতারও সমালোচনা করেছে দিল্লি। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন জুড়ে হিংসা, ভোটে ছাপ্পা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


Share