Stampede

শ্রাবণের সোমবারে শিবমন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্ট! লখিসরাইয়ে সাত পুণ্যার্থীর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা

এক সময় বেশ কয়েক জন পুণ্যার্থী মাটিতে পড়ে গেলে তাঁদের উপর দিয়েই অন্যরা এগিয়ে যেতে থাকেন। পদপিষ্ট হয়ে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিহারের শিবমন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত সাত পুণ্যার্থী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিহার
  • শেষ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৮

বিহারের লখিসরাইয়ের অশোকধাম শিবমন্দিরে শ্রাবণ মাসের সোমবার পুজো দিতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত সাত জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হল। ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। সোমবার সকাল পৌনে সাতটা নাগাদ মন্দির চত্বরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মন্দির চত্বরে একটি বিদ্যুতের তার পড়ে রয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পুণ্যার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। সেই সময় মন্দিরে অত্যাধিক ভিড় ছিল। দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় একে অপরকে টপকে এগোনোর চেষ্টা করেন অনেকে। এর জেরেই ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক সময় বেশ কয়েক জন পুণ্যার্থী মাটিতে পড়ে গেলে তাঁদের উপর দিয়েই অন্যরা এগিয়ে যেতে থাকেন। পদপিষ্ট হয়ে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জখম পুণ্যার্থীদের ইতিমধ্যেই লখিসরাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনায় ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও লখিসরাই জেলা প্রশাসন স্পষ্ট করেনি। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে সাতটার মধ্যে পর পর দু’টি ট্রেন পুণ্যার্থীদের নিয়ে মন্দিরের কাছের স্টেশনে পৌঁছোয়। ফলে মন্দির চত্বরে আচমকাই ভিড় বেড়ে যায়। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলাশাসকের কথায়, “সাত জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বলা হচ্ছে যে, বিদ্যুতের একটি খুঁটি পড়ে যাওয়ায় মন্দিরের ভিতর কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। আর তার জেরেই এই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। তবে সব কিছু খতিয়ে দেখার পরেই আমরা আপনাদের আসল কারণ জানাতে পারব।”

জেলাশাসক জানিয়েছেন, পুণ্যার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু আচমকা হুড়োহুড়ির জেরে একদিকের ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে একে অপরের গায়ের উপর বহু পুণ্যার্থী পড়ে যান। কয়েকজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রবল ভিড়ের চাপে সবাইকে সময়মতো বের করে আনা যায়নি।

লখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দির ‘ইন্দ্রদমনেশ্বর মন্দির’ নামেও পরিচিত। এটি জেলার অন্যতম বিখ্যাত শিবমন্দির। ইন্দ্রদমনেশ্বরের পাশাপাশি মন্দির চত্বরে রয়েছে পার্বতী, নন্দী ও দুর্গার মন্দিরও। সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় থাকে। তবে শ্রাবণ মাসে, বিশেষ করে সোমবার এবং শিবরাত্রির সময়ে পুণ্যার্থীদের সমাগম কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে বিহারের নালন্দার শীতলামাতা মন্দিরে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে আট জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আরও ১২ জন। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের বিহারের আর এক মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।


Share