Murder Case

পঞ্জাবে মাদকবিরোধী কর্মীর খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ভগবন্ত মান সরকারকে প্রশ্ন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, জবাব চাইবে শাহের মন্ত্রক

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, পঞ্জাবে মাদকের কারবার ক্রমশ ফুলেফেঁপে উঠছে। সংগঠিত অপরাধ আরও গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে যাঁরা মুখ খুলছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অমিত শাহ।

(বাঁ দিক থেক) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, অমৃতসর
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১৯

পঞ্জাবে মাদকবিরোধী কর্মী পরবিন্দর সিংহ ঝোটার খুনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, মানসায় পরবিন্দর সিংহ ঝোটার খুন এবং দিরবায় গুলজার সিংহের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পঞ্জাবের ভগবন্ত মান সরকারের কাছে জবাব চাইবে কেন্দ্র। অভিযোগ, হেরোইন সহজলভ্য হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর বিষ খেয়েছিলেন গুলজার সিংহ।

পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যে মাদক পাচার, গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং সংগঠিত অপরাধ ক্রমশ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠলে পঞ্জাবের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?

অমিত শাহ বলেন, “পঞ্জাব বর্তমানে মাদক, গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং সংগঠিত অপরাধের ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলা করছে। ভগবন্ত মান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, শেষ পর্যন্ত পঞ্জাবের মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?”

দিরবার ঘটনার উল্লেখ করে অমিত শাহ জানান, সেখানে গুলজার সিংহ নামে এক ব্যক্তি বিষ খেয়ে মারা যান। মৃত্যুর এক দিন আগে তিনি প্রকাশ্যে পঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিংহ চিমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে রাজ্যে এত সহজে হেরোইন পাওয়া যাচ্ছে। অন্য দিকে, মানসায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পরবিন্দর সিংহ ঝোটা। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অমিত শাহ বলেন, “দিরবায় এক বাবার চাপের মুখে পড়ে বিষ খাওয়া এবং মানসায় মাদকের বিরুদ্ধে সরব হওয়া পরবিন্দর সিংহ ঝোটার প্রকাশ্য দিবালোকে খুন— এই দুই ঘটনা পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। পরবিন্দরের বাবা আপ সরকারের পাশাপাশি তাদের এক বিধায়কের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এই দুই ঘটনা নিয়ে পঞ্জাব সরকারের কাছে জবাব চাইবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, পঞ্জাবে মাদকের কারবার ক্রমশ ফুলেফেঁপে উঠছে। সংগঠিত অপরাধ আরও গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে যাঁরা মুখ খুলছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অমিত শাহ।

ভগবন্ত মানকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, “পঞ্জাবের মানুষ প্রচার চান না, তাঁরা জবাব চান। শুধু ঘোষণা নয়, তাঁরা ফলাফল চান। মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক মদত দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চান তাঁরা।”

এদিকে, পাঞ্জাবে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরদার করে অমিত শাহ ফের জানিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে মাদক ব্যবসা এবং সংগঠিত অপরাধ নির্মূল করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। তাঁর কথায়, বিজেপির লক্ষ্য একটি মাদকমুক্ত, গ্যাংস্টারমুক্ত ও নিরাপদ পঞ্জাব গড়ে তোলা। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, রাজ্যের যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

অমিত শাহ আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং এমন ভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যাতে কোনও নাগরিককে ভয়ের পরিবেশে জীবন কাটাতে না হয়।”


Share