Meghalaya High Court

সিবিআইয়ের চার্জশিট খারিজ, ২৪৬ শিক্ষককে ফেরাতে মেঘালয় সরকারের কাছে জবাব তলব হাই কোর্টের

সোমবার চাকরিহারাদের পক্ষে আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী আদালতে দাবি করেন, “একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একদল চাকরি করবেন আর অন্য দল বিনা অপরাধে কাজ হারাবেন, এটা অসাংবিধানিক। যেহেতু সিবিআই দুর্নীতির কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি, তাই ওই নিরপরাধ শিক্ষকদের কেন চার বছর কাজ করার পর বসিয়ে রাখা হবে?”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মেঘালয়
  • শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৩:৫৫

সিবিআইয়ের চার্জশিট আদালতে টেকেনি, তাই এবার ২০১০ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চাকরি হারানো ২৪৬ জন শিক্ষকের পুনর্বহাল নিয়ে মেঘালয় হাই কোর্ট রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে চাইল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মেঘালয় সরকারকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে এই শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে, যখন মেঘালয় সরকারের ডিরেক্টর অফ এলিমেন্টারি মাস এডুকেশন ৫২১টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পরে মেধাতালিকা প্রকাশের চার বছর পর, ২০১৪ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ২৪৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল করা হয়। অভিযোগ ওঠে, অকৃতকার্য প্রার্থীদের নম্বর বেআইনিভাবে বাড়িয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই সময়ের শিক্ষামন্ত্রী ও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নামও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

মামলাটি প্রথমে মেঘালয় হাই কোর্ট থেকে পরে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্তে সিবিআই ওই ২৪৬ জনকে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেছিল। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের চার্জশিট খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা ওএমআর শিট বিকৃতির নির্দিষ্ট তথ্য সিবিআই তুলে ধরতে পারেনি।

সোমবার চাকরিহারাদের পক্ষে আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী আদালতে দাবি করেন, “একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একদল চাকরি করবেন আর অন্য দল বিনা অপরাধে কাজ হারাবেন, এটা অসাংবিধানিক। যেহেতু সিবিআই দুর্নীতির কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি, তাই ওই নিরপরাধ শিক্ষকদের কেন চার বছর কাজ করার পর বসিয়ে রাখা হবে?” তাঁদের দাবি, প্রশাসনের ভুলের মাশুল যোগ্য প্রার্থীরা দিতে পারেন না। তাঁদের গায়ে লাগানো ‘অযোগ্য’ তকমা এখন আইনিভাবে ভিত্তিহীন।

এই যুক্তি শোনার পর আদালত রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ওই শিক্ষকদের পুনর্বহাল নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী। আগামী তিন সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। 


Share