DA

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার শুনানি, বিশেষ বেঞ্চ না বসায় অনিশ্চয়তায় বকেয়া পরিশোধের ভবিষ্যৎ

তবে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা দু'টোয় ৭ নম্বর আদালতে ওই বেঞ্চ বসছে না। ফলে ডিএ মামলার শুনানি আপাতত স্থগিত থাকল। পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৪:২১

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি। বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হচ্ছে না। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে এ দিন মামলাটির শুনানি নির্ধারিত ছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা দু'টোয় ৭ নম্বর আদালতে ওই বেঞ্চ বসছে না। ফলে ডিএ মামলার শুনানি আপাতত স্থগিত থাকল। পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে বুধবার রাতে জানানো হয়েছে, বিশেষ বেঞ্চ এ দিন বসবে না। পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের ৭ নম্বর আদালতে দুপুর দু'টোয় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি অগস্টিন জর্জ মসিহর নিয়মিত বেঞ্চ বসবে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া স্টেটাস রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ৮৫ শতাংশ চার কিস্তিতে পরিশোধ করতে তারা আগ্রহী। এই প্রস্তাবের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির কথা থাকলেও, বিশেষ বেঞ্চ না বসায় এ দিন আর সেই শুনানি হচ্ছে না।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কত দফায় পরিশোধ করা হবে, তা নির্ধারণ করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল পূর্বতন সরকারের আমলে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে। এরপর শীর্ষ আদালতে একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, বকেয়া ১৫ শতাংশ ডিএ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

রিপোর্টে রাজ্য সরকারের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল ব্যয়, জিএসটি থেকে প্রাপ্ত আয় কমে যাওয়া এবং অন্যান্য আর্থিক দায়ের কারণে রাজকোষের উপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ এককালীন মিটিয়ে দিলে রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি পাঁচ শতাংশেরও বেশি হয়ে যাবে, যা এফআরবিএম আইনে নির্ধারিত সীমাকে অতিক্রম করবে। পাশাপাশি, রাজ্যের যুক্তি, সর্বভারতীয় মূল্য সূচকের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কিছুটা কম রয়েছে।

আদালতের নির্দেশ মেনে বকেয়া পরিশোধের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে বলে রিপোর্টে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ হারে হিসেব করলে মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের প্রায় সাত হাজার ৭৭১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। রাজ্যের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা করা হয়েছে। আর গ্রুপ-ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট বকেয়া আগামী বছরের জানুয়ারি, জুলাই এবং শেষ কিস্তি ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মৃত কর্মীদের বকেয়া প্রাপ্য তাঁদের আইনি উত্তরাধিকারীদের হাতে পৌঁছে দিতে একটি বিশেষ নির্দেশিকা ও হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের নথি ডিজিটাইজ করার লক্ষ্যে ই-সার্ভিস বুক পোর্টালের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সুপ্রিম কোর্টের শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।


Share