Mysterious Death

‘মা, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে!’ মধ্যরাতে কাঁদতে কাঁদতে ফোন, সকালে হোমস্টে থেকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর দেহ উদ্ধার

শনিবার ভোরে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় তাঁর বন্ধু আসিফ আলি (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি
  • শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৪

গুয়াহাটির উপকণ্ঠে গারল এলাকার একটি হোমস্টে থেকে ২২ বছরের এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার ভোরে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় তাঁর বন্ধু আসিফ আলি (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ বা হোমস্টের ঘরের মেঝেতে কোনও রক্তের দাগ পাওয়া যায়নি।

গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) বলীন দেউড়ি জানান, ধৃত আসিফের দাবি, নিমিষা আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর এই দাবিকে এখনও মান্যতা দিচ্ছে না পুলিশ। অচৈতন্য অবস্থায় নিমিষাকে প্রথমে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে তাঁকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্তে হোমস্টের মালিক ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিমিষার বাবার বন্ধু গৌতম দাস এনডিটিভি-কে জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ এক বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে নিমিষা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত আটটা এবং ১০টা নাগাদ ফোনে মাকে জানিয়েছিলেন, ওই দিন তিনি বন্ধুর বাড়িতেই থাকবেন। গৌতমের দাবি, রাত দু'টো নাগাদ কাঁদতে কাঁদতে মাকে ফোন করে নিমিষা বলেন, “মা, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।” একই কথা তিনি বার বার বলছিলেন বলে দাবি গৌতমের। এর পরেই সম্ভবত তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যেরা আজারা থানায় গেলে পুলিশ জানায়, এক তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোরে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা নিমিষার মৃত্যুর খবর পান তাঁরা।

হোমস্টের কেয়ারটেকার বিপুল বাইলুং জানিয়েছেন, রাতে তিনি এক পুরুষের চিৎকার শুনেছিলেন। তাঁর কথায়, “কেউ একজন চিৎকার করে বলছিলেন, ‘দাদা ওঠো, ওঠো।’” বাইরে বেরিয়ে কাউকে দেখতে না পাওয়ার পর তাঁরা ফের ঘরে ফিরে যান। সে সময় রাস্তায় টহলরত পুলিশ তাঁদের বাইরে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিপুলের দাবি, পুলিশ চলে যাওয়ার পর তিনি ফের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। পরে একটি ঘরে গিয়ে দেখেন, এক যুবক নিমিষার নিথর দেহ ধরে মেঝেতে বসে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, ওই যুগল হোমস্টের ১০ নম্বর ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন এবং পাশাপাশি ৯ নম্বর ঘরটিও ব্যবহার করছিলেন।

নিমিষার মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ঘটনার নেপথ্যে ‘লভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে নামে এবং পথ অবরোধ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ তুলে দেওয়া হয়। তবে ওই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনও কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। নিমিষার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


Share