Ukraine War

যে রাশিয়া একসময় তেল দিত ভারতকে, এ বার উল্টো ছবি! যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি টান, ভারত থেকে ৬০ হাজার টন পেট্রল কিনছে মস্কো

তবে এ বার সেই রাশিয়াতেই ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে জ্বালানি সঙ্কট। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও রফতানিকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

ভারত থেকে দুটি ট্যাঙ্কারে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে পেট্রোল রাশিয়ায় পাঠানো হয়ে
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইউক্রেন
  • শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৩:১১

ইউক্রেন যুদ্ধের টানা চার বছরের প্রভাবে জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়েছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ভারতের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো গ্যাসোলিন (পেট্রল) আমদানি শুরু করেছে মস্কো বলে একাধিক সূত্রের দাবি। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ভারত থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন পেট্রল রাশিয়ায় রফতানি করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বা রাশিয়ার শক্তি মন্ত্রক কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া, উৎপাদনের নিরিখে যার অবস্থান তৃতীয়। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি করে আসছে। এই রুশ তেল কেনাকে ঘিরে অতীতে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছিল। তবে এ বার সেই রাশিয়াতেই ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে জ্বালানি সঙ্কট। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও রফতানিকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গত বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার ও রফতানি কেন্দ্রেও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়। রাশিয়ার দাবি, ওই দিন ছ’টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যেই পেট্রল রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর জেরে দেশের একাধিক পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ দিকে, একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জলপথে ভারত থেকে পেট্রল আমদানি শুরু করেছে রাশিয়া।

গ্রীষ্মকালে রাশিয়ায় জ্বালানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এই সময়ে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লক্ষ ১০ হাজার টন পেট্রল ব্যবহৃত হয়। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেওয়ায় চাপে পড়েছে রাশিয়াও। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে গত এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু সেভাস্তোপোল নয়, রাশিয়ার আরও বিভিন্ন অঞ্চলেও খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি অঞ্চলে কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের কাছে আপাতত জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ভারত-সহ একাধিক ‘বন্ধু’ দেশ থেকে পেট্রল আমদানি শুরু করেছে মস্কো। তবে ভারতের কোন তেল শোধনাগার বা সংস্থার কাছ থেকে এই পেট্রল কেনা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত রবিবার রুশ মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে প্রশাসন।


Share