Special Intensive Rivision

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ৮ হাজারের বেশি গ্রুপ-বি দিতে পারবে নবান্ন, কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানাল রাজ্য সরকার

বুধবার যখন মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর নিয়ে সওয়াল করেছিলে তখন কমিশনের তরফের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি আধিকারিক দেয়নি।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩৬

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের কাজের জন্য আট হাজার ৫০০ গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে নবান্ন। পিটিআই সূত্রের খবর, শনিবার নবান্নের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সোমবার ফের এসআইআর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। আগের বারের মতোই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে পারবেন। তার আগেই চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে গ্রুপ-বি আধিকারিকের সংখ্যা জানিয়ে দেওয়া হল।

গত বুধবার যখন মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর নিয়ে সওয়াল করেছিলে তখন কমিশনের তরফের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি আধিকারিক দেয়নি। সেই কারণেই এসআইআর-এর কাজের জন্য বাইরের রাজ্য থেকে আধিকারিক আনা হয়েছে। এর পর আদালত রাজ্য সরকারকে তালিকা দিতে বলেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছিল, কত জন গ্রুপ-বি আধিকারিককে রাজ্য সরকার এসআইআর-এর কাজের জন্য দিতে পারবে, তা সোমবারের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। সেই মতো শনিবারই চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সংখ্যা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তথ‍্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিস্ক্রেপেন্সির জন্য অনেক ভোটারকে শুনানিতে ডেকে হেনস্থা করা হচ্ছে। আদালত জানিয়েছিল, বানানের ছোটখাটো ভুলের জন্য কারও নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না-যায়, তা কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। তবে বানান ভুল থাকলে তা সংশোধন করার দায়িত্ব ভোটারের, তা-ও বলে শীর্ষ আদালত। এই সমস্যা একমাত্র বাংলা ভাষার মানুষই বুঝতে পারবেন। এই কাজের জন্য নবান্নকে এমন অফিসারই দিতে বলা হয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, এসআইআরের কাজে বাংলায় সাবলীল আধিকারিকদের নিয়োগ করলেই ভাষা বা বানান সংক্রান্ত সমস্যাগুলি দূর হবে। এর পরেই নির্বাচন কমিশন আদালতে জানায়, এখনও পর্যন্ত এসআইআরের কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাত্র ৮০ জন ‘গ্রেড-২’ অফিসারকে নিয়োগ করেছে, যা এই কাজের জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। বেশি করে দেওয়া হয়েছে অঙ্গনওয়ারি কর্মীর মতো নিম্নস্তরের সরকারি চাকুরেদের। কমিশনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে মমতা অবশ্য জানিয়েছিলেন, এসআইআরের কাজে রাজ্য সরকার সবরকম সহায়তা করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর মামলায় গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নোটিশ জারি করেছিল। সোমবারের মধ্যে কমিশন এবং রাজ্যের সিইও-এর কাছ থেকে উত্তর চাওয়া হয়েছিল। আদালত জানায়, শুনানির নোটিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের আধিকারিকদের আরোও সংবেদনশীল হতে হবে। এ হেন পরিস্থিতিতে সোমবার শুনানির দিকে রাজ্যবাসীর নজর রয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের প্রক্রিয়া চলছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করার কথা ছিল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা কমিশন প্রকাশ করবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তবে শুনানির কাজ এখনও অনেক জায়গায় শেষ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের কাছে তার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন আরও পিছিয়ে যাবে কি না, তা অবশ্য সময়ই বলবে।


Share