Coal Scam

পাচার রুখতে দুই রাজে সিআইএসএফের অভিযান! ৭৭৮টি মামলা দায়ের, বাজেয়াপ্ত প্রায় দু’কোটি টাকার বেশি অবৈধ কয়লা

মঙ্গলবার সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, কুলটি-সহ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২২ জুন থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রায় আড়াই মাস ধরে সিআইএসএফ তল্লাশি চালিয়েছে।

কয়লা পাচার রুখতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়খণ্ড
  • শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৯

কয়লা পাচার রুখতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। সিআইএসএফ জানিয়েছে, মোট ৭৭৮টি অভিযানে চালানো হয়েছে। তাতে ৫০টির ওপরে অবৈধ কয়লার খনি সিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার হাজার টন অবৈধ কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, কুলটি-সহ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২২ জুন থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রায় আড়াই মাস ধরে সিআইএসএফ তল্লাশি চালিয়েছে। খনি ও খনিজ (এমএমডিআর) আইনের অধীনে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

সংস্থা সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে খবর পেয়ে সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়। তার পরেই অবৈধ ভাবে কয়লার খনন, উত্তোলন, মজুত এবং পরিবহণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। ইসিএলের অধীনে থাকা বিভিন্ন এলাকায় ৬৭টি অবৈধ খনি চিহ্নিত করে সিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বেআইনি ভাবে কয়লা উত্তোলনের রাস্তা কার্যত বন্ধ করা হয়েছে বলে সিআইএসএফ দাবি করেছে। সংস্থা জানিয়েছে, মোট দুই রাজ‍্যে ৭৭৮টি জায়গায় অভিযান চলে। ৭৭৮টি মামলা রুজু করা হয়েছে।

সিআইএসএফ আরও জানিয়েছে, অভিযানে ৩,৯৬৬.৯৯০ মেট্রিক টন অবৈধ কয়লা উদ্ধার হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা কয়লার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ২৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৭৯ টাকা। কয়লা পাচারের সঙ্গে জড়িত দু’টি ট্রাক, পাঁচটি টোটো, আটটি ট্রাক্টর, তিনটি পিকআপ ভ্যান, ৯৭টি মোটরবাইক এবং ২১৮টি সাইকেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হয়েছে।

সিআইএসএফ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে এ ধরনের অভিযান আগামী দিনেও চলবে। পাশাপাশি তাদের দাবি, নতুন করে অবৈধ খনি যাতে আর গড়ে না ওঠে তার জন‍্য এই অভিযান চলবে। ইসিএলের কমান্ড এলাকার একাধিক স্পর্শকাতর খনি এলাকা রয়েছে। কয়লা পরিবহণের রুটে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বক্তব্য, এ সব একেবারেই লোক দেখানো। তিনি বলেন, “আমরা রাজ‍্যের মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের ছেলে কয়লার রেট কারবারিদের ডেকে বৈঠক করছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। এই অডিয়ো ক্লিপ যদি ভুল হত তাহলে আমাদের পুলিশ ডাকতে পারত। কিন্তু তা করা হয়নি।” কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, “পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে বালি, কয়লা পাচার চলছে। আগে তৃণমূল করত। এখন বিজেপি করছে। এতে প্রশাসনের একাংশ জড়িত রয়েছে, তা দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি।” এই নেপথ‍্যে মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী।


Share