Donald Trump

ভারত-সহ ৪০ দেশ চিনকে সাহায্য করছে শুল্ক ফাঁকিতে! ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিযোগ, আমেরিকার শুল্ক এড়াতে ৪০টিরও বেশি দেশ চিনকে সাহায্য করছে। সেই তালিকায় ভারতও রয়েছে। ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ নামে একটি রিপোর্টে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন আমেরিকার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা পিটার নাভারো।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫০

যুদ্ধের আবহ থেকে যেন অব্যাহতি নেই আমেরিকার। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কিছুটা থিতিয়ে আসতেই ফের শিরোনামে শুল্কযুদ্ধ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিযোগ, আমেরিকার শুল্ক এড়াতে ৪০টিরও বেশি দেশ চিনকে সাহায্য করছে। সেই তালিকায় ভারতও রয়েছে। ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ নামে একটি রিপোর্টে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন আমেরিকার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা পিটার নাভারো। তাঁর হুঁশিয়ারি, এই ‘ষড়যন্ত্র’ শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্য নেবে আমেরিকা।

নাভারোর অভিযোগ, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে ব্যবহার করে চিনা পণ্যের প্রকৃত উৎস গোপন করা হচ্ছে। পরে সেই পণ্য ঘুরপথে আমেরিকার বাজারে ঢোকানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন চিনের বিরুদ্ধে ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় শুল্ক আরোপ করার পর থেকেই এই ধরনের ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ বেড়েছে। আমেরিকার বাণিজ্য দফতরের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ভাবে অবৈধ ভাবে স্থানান্তরিত পণ্যের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৩০৩ বিলিয়ন আমেরিকার ডলারে পৌঁছেছে। ফলে চিনা পণ্যের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি রুখতে এ বার ট্রাম্প প্রশাসন আরও কড়া নজরদারির পথে হাঁটতে চাইছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে পণ্য স্থানান্তরের নামে চিন একটি বড় ধরনের ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ জালিয়াতি চালিয়ে আসছে। তাঁর দাবি, ৪০টিরও বেশি দেশের মাধ্যমে চিনা পণ্যের প্রকৃত উৎস গোপন করে সেগুলি অন্য দেশের পণ্য হিসেবে আমেরিকার বাজারে ঢোকানো হচ্ছে। এই ‘ছায়া বাণিজ্য’ নেটওয়ার্কে আমেরিকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্ত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর তালিকায় রয়েছে মেক্সিকো, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এশিয়ার ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া। নাভারোর অভিযোগ, চিনা পণ্যকে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে দেখাতে তৃতীয় কোনও দেশে সামান্য প্রক্রিয়াকরণ, নতুন লেবেল বা প্যাকেজিং, ইনভয়েস পরিবর্তন কিংবা পণ্য পরিবহণের রুট বদলের মতো কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিনা পণ্যের প্রকৃত উৎস আড়াল করে মার্কিন শুল্ক এড়ানোর চেষ্টা চলছে। আমেরিকার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চিনা সংস্থা, সরকার-সমর্থিত উৎপাদক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি তুলনামূলক কম শুল্ক এবং সহজ কাস্টমস ব্যবস্থার সুযোগ নিতে এমন দেশগুলিকে ব্যবহার করছে, যাদের সঙ্গে আমেরিকার বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা রয়েছে। সেই পথেই চিনা পণ্য শুল্ক এড়িয়ে আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ। নাভারো আরও বলেন, ‘চিনা পাম্প পুনে থেকে ভারতীয় পণ্য হিসেবে বেরিয়ে গেলে সেটা আর সিনসিনাটি, ডেটন বা কলম্বাসে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ভারত-চিনের পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই ধরনের ‘জালিয়াতি’ শনাক্ত করতে এ বার থেকে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন আমেরিকার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর হুঁশিয়ারি, সন্দেহজনক কোনও চালান চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের উপর শুল্ক আদায়, জরিমানা, পণ্য বাজেয়াপ্ত করা কিংবা মার্কিন বাজারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে।


Share