Murder

হায়দারবাদে তিন মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে খুন প্রাক্তন স্বামীর, গ্রেফতার অভিযুক্ত, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

তার পরই স্ত্রী সুনীতা দেশে ফিরে আসেন। হায়দরাবাদে ফিরে তিনি মহেশের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেন। মহেশও কানাডা থেকে ফিরে আসেন। তার পর ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হায়দরাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৬

তিন মাসের অন্তঃসত্তা প্রাক্তন স্ত্রীকে খুন। এমন অভিযোগ উঠল তথ্যপ্রযুক্তির এক কর্মীর বিরুদ্ধে। বুধবার তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সুনীতা। দেবেরাকোন্ডা মহেশ তাঁর প্রাক্তন স্বামী। সুনীতা এবং মহেশ দু’জনেই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। তাঁরা দুজনেই কর্মসূত্রে কানাডা থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হত। তার পরই স্ত্রী সুনীতা দেশে ফিরে আসেন। হায়দরাবাদে ফিরে তিনি মহেশের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেন। মহেশও কানাডা থেকে ফিরে আসেন। তার পর ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, সুনীতা দেশে ফিরে এসে চাকরিতে যোগ দেন। গত বছরে বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রাক্তন স্ত্রীর নতুন বিয়ের খবর পেয়েছিলেন মহেশ। স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়েতে প্রাক্তন স্বামী অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেন। হায়দরাবাদের বনস্থলীপুরমে থাকতেন সুনীতা। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বুধবার দুপুরে বাড়িতে একাই ছিলেন ওই মহিলা। মহেশ তাঁর সঙ্গে একটি ব্যাগের মধ্যে ছুরি, পেট্রল এবং করাত নিয়ে এসেছিলেন।

সেই পরিস্থিতিতেই মহেশ সুনীতার বাড়িতে ঢোকেন। তার পর ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, মহেশের প্রাক্তন স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে কথা বিবাদ হয়। অভিযোগ, তার মধ্যেই ব্যাগ থেকে ছুরি বার করে তিনি আচমকা সুনীতার উপর হামলা চালান। সুনীতার শরীরে একের পর এক কোপ বসিয়ে দেন। সুনীতার চিৎকার শুনে পড়শিরা ছুটে আসে। তখনই বাথরুমের ভিতর ঢুকে মহেশ দরজা আটকে দেন। সুনীতার পড়শিরাই মহেশকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সুনীতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সুনীতার পরিবার সূত্রের খবর, ২০২২ সালে সুনীতার সঙ্গে মহেশের বিয়ে হয়েছিল। তারপরেই তাঁরা স্বামী-স্ত্রী কানাডা চলে যান। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ২০২৫ সালে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন সুনীতা। পুলিশ সূত্রে খবর, গত বছর মহেশের মায়ের মৃত্যু হয়। সেই কাজেই তিনি হায়দরাবাদে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ থাকায়, পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলত মহেশ কানাডা ফিরে যেতে পারেননি। আর এই ঘটনার পর থেকেই সুনীতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সুনীতা আবার বিয়ে করে বনস্থলীপুরম এলাকায় থাকছেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, সুনীতার উপর হামলার আগে রেকি করেছিলেন মহেশ। তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে জেরা করা হচ্ছে।


Share