Satyender Jain Arrested

দিল্লিতে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী সত‍্যেন্দ্র জৈন, ধৃতদের জেরা করেই উঠে আসে তাঁর নাম, আম আদমি পার্টির নেতাকে হেফাজতে নিল এসিবি

আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল লেখেন, “সত্যেন্দ্র জৈনকে আবারও বিজেপির নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই তাঁকে জেলে পাঠিয়ে যে হয়রানি করা হয়েছিল, তা এখনও সবার মনে আছে। আগের মামলাটি সাজানো হয়েছিল। এই মামলাটিও যে মিথ্যা, তা-ও প্রমাণিত হবে।”

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সত‍্যেন্দ্র জৈন গ্রেফতার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৫

মন্ত্রী থাকাকালীন দফতরে টেন্ডার সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীকে হেফাজতে নিল দিল্লি পুলিশ। ধৃতের নাম সত‍্যেন্দ্র জৈন। অভিযোগ, দিল্লির জল বোর্ডের একটি টেন্ডারে কারচুপি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এর আগে টাকা পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। আম আদমি পার্টির দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) জানিয়েছে, দিল্লি সরকারের ভিজিল্যান্স দফতর দিল্লি জল বোর্ডের নিকাশি পরিশোধন কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন সংক্রান্ত টেন্ডার বের করেছিল। অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। টেন্ডারের শর্তে কারচুপি করা হয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী সত‍্যেন্দর জৈন জড়িত হয়েছেন।

কীভাবে টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতি করেছেন তা-ও জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। তাদের দাবি, তদন্ত করে তারা জানতে পেরেছে যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং শর্ত রাখা হয়েছিল। সেটা হাতিয়ার করে ‘ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবকে ‘পাইলট স্টাডি’ করা হয়নি। পাশাপাশি টেন্ডারে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি করে শর্ত রাখা হয়েছিল। পরিশোধিত বর্জ্যজলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানদণ্ডও বাদ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, শ্রীজনহার এবং এএন এন্টারপ্রাইজ নামে সংস্থাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সংস্থা হিসেবে ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করা হয়েছিল।

দিল্লি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা আরও জানিয়েছে, তৎকালীন দিল্লি জল বোর্ডের সিইও উদিতপ্রকাশ রাই তাঁর নিজের এবং আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৫২ লক্ষ টাকা টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। সেই টাকা এএন এন্টারপ্রাইজের মালিক নগেন্দ্র যাদবের মাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। তা দিয়ে জমি, ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে।

অভিযোগের একটি মামলা দায়ের করেছিল। তদন্তের পর মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও উদিতপ্রকাশ রাই, দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এএন এন্টারপ্রাইজের মালিক নগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক রাজাকুমার কুরা এবং শ্রীজনহার সংস্থার মালিক পঙ্কজ বর্মা। এ বার সেই তালিকায় আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী সত‍্যেন্দ্র জৈন যুক্ত হলেন। 

গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই আম আদমি পার্টি দাবি করেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে। দলের জাতীয় মিডিয়া ইনচার্জ অনুরাগ ধান্ডা সংবাদমাধ্যমে লেখেন, “আর কত প্রমাণ দরকার যে বিজেপি আপকে ভয় পাচ্ছে? ওই জল বোর্ডের টেন্ডারের সময় সত্যেন্দ্র জেলে ছিলেন। জেলে থেকে তিনি কীভাবে এর জন্য দায়ী হলেন? আসল কারণ হল, সত্যেন্দ্র জৈন পঞ্জাবে দলের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। সেখানে নির্বাচন আসন্ন।”

এই গ্রেফতারি নিয়ে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশেই সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি সমাজমাধ‍্যমে লেখেন, “সত্যেন্দ্র জৈনকে আবারও বিজেপির নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই তাঁকে জেলে পাঠিয়ে যে হয়রানি করা হয়েছিল, তা এখনও সবার মনে আছে। আগের মামলাটি সাজানো হয়েছিল। এই মামলাটিও যে মিথ্যা, তা-ও প্রমাণিত হবে।”


Share