Election Commission

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ক্ষমতার লড়াইয়ে বড় মোড়! সীমা খন্নার ওপর ফিরল ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের নজরদারি, নতুন নির্দেশিকা জ্ঞানেশ কুমারের

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ বার থেকে সীমা খন্নাকে সমস্ত ফাইল সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার পবনকুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আইটি এবং আইসিটি বিভাগের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পবনের হাতে।

সীমা খান্না।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:০৭

অভ্যন্তরীণ কাজের বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া মতবিরোধের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকের ওপর ফের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার স্তরের তদারকি চালু করা হল। বৃহস্পতিবার এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার বিরুদ্ধে ‘অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ ওঠার প্রায় তিন মাস পর এই সিদ্ধান্ত। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ বার থেকে সীমা খন্নাকে সমস্ত ফাইল সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার পবনকুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আইটি এবং আইসিটি বিভাগের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পবনের হাতে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী। কিন্তু তাঁদের আপত্তি উপেক্ষা করেই জ্ঞানেশের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

এসআইআর প্রক্রিয়াতেও এই বিতর্কের ছায়া পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) ক্ষমতা কার্যত খর্ব করা হয়েছিল। পরিবর্তে দিল্লি থেকে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। এই ব্যবস্থার নেপথ্যে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ সামনে আসে। যদিও পরবর্তী সময়ে কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা নতুন ভোটারের নাম তোলার ক্ষেত্রে নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও-রাই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকার মাধ্যমে তৎকালীন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের হাত থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সীমা খন্নাকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে তাঁর কাজকর্মের উপর ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার স্তরের নজরদারি কার্যত উঠে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তৎকালীন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমানাথনকে চিঠিও লিখেছিলেন সুখবিন্দর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী।

এ বার নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে সেই পুরনো তদারকি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনল কমিশন। সীমা খন্নার সমস্ত ফাইল পবনকুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এসআইআর-সহ নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্মে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন নির্দেশিকায় তারই প্রেক্ষিতে ফের ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


Share