ED Summoned Communist Leader

ঘুষের টাকা দুবাইয়ে পাচার! সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নের বাড়ির দেওয়ালে তলবের নোটিস সাঁটাল ইডি, আগামী ২৩ অক্টোবর হাজিরার নির্দেশ কেন্দ্রীয় সংস্থার

ঘুষকান্ডে এর আগে কমিউনিস্ট নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তলব করা হলেও তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেননি। শনিবার কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকেরা সিপিএম নেতার বাড়ির দেওয়ালে একটি নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে এসেছে।

কেরালমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কেরল
  • শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৮

কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল)-এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন ও ঘুষের অভিযোগে নাম জড়িয়েছে কেরালমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে তলবের নটিস সাঁটিয়ে দিয়ে এল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ঘুষকান্ডে এর আগে কমিউনিস্ট নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তলব করা হলেও তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেননি। শনিবার কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকেরা সিপিএম নেতার বাড়ির দেওয়ালে একটি নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে এসেছে।

জানা গিয়েছে, প্রথমে সিপিএম নেতাকে ডাকযোগে সমন পাঠিয়েছিল ইডি। পরে তিরুবনন্তপুরমের বেকারি জংশনে বিজয়নের বাসভবনে গিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে সমন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। কিন্তু সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না সিপিএমের বিজয়ন। বাড়িতেও যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরাও নোটিস গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এরপর আধিকারিকরা ফিরে গিয়ে ফের তলবের নোটিস দেওয়ার চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় বারও প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ির দেওয়ালে সমনটি সাঁটিয়ে দেন তাঁরা।

ইডি সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় ইডির দফতরে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। সেখানেই সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি তাঁর আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্রও জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে কেরল বিধানসভার অধিবেশন চলার কারণ দেখিয়ে সিপিএমের নেতা হাজিরা এড়াতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে।

সিএমআরএল মামলায় ইসিআইআর ভিত্তিতে কেরালামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর মেয়ে টি বীণার মাধ্যমে ঘুষ হিসেবে ৩.২৮ কোটি টাকা পেয়েছিলেন সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন। যদিও এই মামলাকে ঘিরে কেরালাম হাই কোর্টেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ইডির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে এফআইআর নথিভুক্ত করে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে হাই কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে।

ইডি আদালতকে জানিয়েছিল, তারা প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে বেশ কিছু নথি ও ডায়েরির এন্ট্রি রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। রাজ্য সরকার চাইলে রেকর্ড করা বয়ান-সহ আরও প্রমাণ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই পর্যায়ে নতুন করে আর একটি প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজন নেই। কেরালা হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন এবং তাঁর জামাই তথা রাজ্যের প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী পি এ মহম্মদ রিয়াস। কিন্তু তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। বর্তমানে তাঁদের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

রাজ্যের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে দুটি ইসিআইআর নথিভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। একটি মামলায় বিজয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থপ্রদানের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যটিতে অভিযোগ, মন্ত্রী থাকাকালীন অনৈতিক ভাবে বিজয়নের জামাই মহম্মদ রিয়াস আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী-র সহায়তায় সেই টাকা উপসাগরীয় দেশগুলিতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

কী এই সিএমআরএল আর্থিক লেনদেনের মামলা?

কেরল-ভিত্তিক সংস্থা সিএমআরএল সিন্থেটিক রুটাইল ও বিভিন্ন শিল্প রাসায়নিক তৈরি করে। অন্য দিকে, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনস-এর মালিকানা রয়েছে বিজয়ন কন‍্যা টি বীণার কাছে। পিনারাই বিজয়নের প্রথম দফার মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় এই দুই সংস্থার মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল বলে অভিযোগ।

গত ২০২৩ সালের অগস্টে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোনও পরিষেবা না দিয়েই সিএমআরএলের কাছ থেকে ১.৭২ কোটি টাকা পেয়েছিল এক্সালজিক। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তের জন্য সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে (এসএফআইও) নির্দেশ দেয়।

পরবর্তী সময়ে ইডি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ পরিষেবার ফি বাবদ এক্সালজিককে ২.৭৮ কোটি টাকা দিয়েছিল সিএমআরএল। যদিও কোনও পরিষেবা দেওয়া হয়নি বলে ইডি দাবি করে। মে মাসে বিজয়নের বাসভবন এবং কোঝিকোড় জেলার স্থানীয় সিপিএম নেতাদের সঙ্গে যুক্ত আটটি জায়গায় ইডি তল্লাশি চালায়।

ইডির বক্তব্য, তদন্ত চলাকালীন হাওয়ালার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।বিষয়টি কেরলাম পুলিশকেও জানিয়েছিল। সিএমআরএলের প্রাক্তন চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার বয়ানে দাবি করেছেন, বীণা ও অন্যদের মাধ্যমে দুবাইয়ে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে মহম্মদ রিয়াস সাহায্য করেছিলেন। এই সমস্ত তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক অর্থপ্রদানের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ইডি। সেই কারণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে ইডি মনে করছে।


Share