ED Raid

সাইবার প্রতারণায় ৪০০ কোটির টাকার বেশি আর্থিক তছরুপ! বিদেশে পাচার করা হয়েছে টাকা, চেন্নাইয়ে ইডির হাতে গ্রেফতার দু’জন

সাইবার প্রতারণার অভিযোগে চারটি রাজ‍্যে ১২টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই সমস্ত এফআইআর মিলিয়ে ইডি ইসিআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।

প্রতীকী ছবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চেন্নাই
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৮

সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, সেই টাকা ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নেওয়া হয়েছে। তার পরে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সাইবার প্রতারণা করে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃতদের নাম রোশন ফয়াজ ও অম্মার। ৩০ অক্টোবর চেন্নাই জোনাল অফিসের আধিকারিকেরা তাঁদের গ্রেফতার করেন।

ইডি সূত্রের খবর, বিভিন্ন লগ্নি প্রকল্প, চাকরি এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করত এই চক্র। সামাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করে সেই কাজ করা হয়েছিল। প্রতারিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। পরে সেই টাকা ছোট ছোট অঙ্কে একাধিক অ্যাকাউন্টে পাঠিনো হত। সেই সমস্ত টাকা ঘুরিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি (USDT)-তে রূপান্তরিত করা হতো।

তেলেঙ্গানার সাইবার ক্রাইম কমান্ড সেন্টার এবং সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া দুটি এফআইআরের ভিত্তিতে ইসিআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তে তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গে দায়ের হওয়া আরও ১০টি এফআইআর সঙ্গে একই চক্রের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ৬০০-রও বেশি সাইবার অপরাধের অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে ইডি বিবৃতিতে জানিয়েছে।

ইডির তদন্তকারীদের দাবি, রোশন ফয়াজ এই চক্রের মূল হোতা। নিজের নামের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সংস্থার নামে একাধিক ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার টাকা লেনদেন করেছেন। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে।

অন্য দিকে, ধৃত অম্মার বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, নেট-ব্যাঙ্কিংয়ের তথ্য, সিম কার্ড, মোবাইল ফোন ও ইমেল আইডি সরবরাহ করতেন বলে ইডি জানতে পেরেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রেতাদের কাছ থেকে ভারতীয় মুদ্রায় টাকা গ্রহণের জন্য এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করা হতো বলেও ইডি দাবি করেছে। এমনকী, সাইবার অপরাধের টাকা দুবাই, আমেরিকায় পাচার করা হয়েছে বলেও ইডি মনে করছে। 

এর আগে অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ১৪.৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৩.২৬ কোটি টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। পাশাপাশি একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৮৮.২৮ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করা হয়।

দুই অভিযুক্তকে চেন্নাইয়ের বিশেষ ইডির আদালতে পেশ করা হয়েছে। বিচারক ধৃতদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে বলে ইডি মনে করছে। 


Share