Ritabrata Banerjee

মমতা-ঋতব্রত দুই শিবিরকে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ, ৬ জুলাইয়ের মধ্যে লিখিত জবাব ও প্রমাণপত্র জমার নির্দেশ

কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ নিজেদের অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে হবে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১১:২৭

তৃণমূলের প্রকৃত নেতৃত্ব ও দলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পাল্টাপাল্টি দাবির প্রেক্ষিতে দু’পক্ষকেই নোটিশ পাঠিয়েছে । কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ নিজেদের অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে হবে।

নিজেদেরই ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক বৈঠক করে আর একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়। সেই তালিকায় মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল’-এর চেয়ারম্যান করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ছিল না। পরে ঋতব্রতদের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঋতব্রত। তাঁর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ন’জন বিধায়ক এবং এক জন প্রাক্তন মন্ত্রী। বেলা ১২টায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ঋতব্রত দাবি করেন, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। পাশাপাশি, দলের নতুন কর্মসমিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতেই কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছিল বলে তিনি জানান। দলের প্রতীক এবং তহবিল কোন শিবিরের হাতে যাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, “কোনও রকম বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলরেরা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যেরাও আমাদের সঙ্গে।”

প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত। এর পর বৃহস্পতিবার রাতেই তৃণমূলের দুই শিবিরের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন সূত্রে খবর, দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির প্রেক্ষিতে তাদের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিজেদের দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষের লিখিত বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করেই তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে ভাঙন স্পষ্ট হতে শুরু করে। কালীঘাট শিবির শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করে সেই মর্মে বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠায়। তবে ঋতব্রত সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন তাঁর পক্ষেই রয়েছে। সেই সমর্থনের ভিত্তিতে স্পিকারের কাছে পৃথক চিঠি জমা দেন তিনি। পরে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন বিবেচনা করে স্পিকার ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর থেকেই কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র আকার নেয়। দলের প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষই সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই টানাপড়েনের জেরেই তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা হয়েছে। সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই এবার দুই পক্ষের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।


Share