Drug Smuggling

দুবাই থেকে মাদক মাফিয়া বীরেন্দ্রকে প্রত‍্যর্পণ করল ভারত, ১৩ হাজার কোটি টাকার পাচারের অভিযোগ, জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। মাদক মাফিয়া বীরেন্দ্র সিং বাসোয়াকে দুবাই থেকে প্রত‍্যর্পণ করে এনসিবি মাইলফলক তৈরি করেছে। অপরাধীদের সর্বক্ষণ নজরদারি চালিয়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি আবারও প্রমাণ করেছে, মাদক পাচারকারীরা বিশ্বের যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, দেশের আইনের দীর্ঘ হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।”

মাদক মাফিয়া বীরেন্দ্র সিং বাসোয়া।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুবাই
  • শেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০৩:২৩

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে মাদক মাফিয়া বীরেন্দ্র সিংহ বাসোয়াকে প্রত‍্যর্পণ করল ভারত। সমাজমাধ‍্যমে এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, বীরেন্দ্রকে পলাতক ছিল। তাঁকে একাধিক মাদক পাচার মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ‘ঘোষিত অপরাধ’ হিসেবে সরকার ঘোষণা করেছিল। বীরেন্দ্র ১৩ হাজার কোটি টাকার মাদক উদ্ধারের মামলায় ছিলেন। এ ছাড়াও, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো পলাতক মাদক মাফিয়া বীরেন্দ্র সিংহ বাসোয়াকে ভারতে প্রত‍্যর্পণ করে এনেছে। তিনি লেখেন, “মোদী সরকার বিদেশে লুকিয়ে থাকা মাদক পাচারকারীদের নিরলস ভাবে খুঁজে বের করছে। কঠোর হাতে তাদের গোটা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করছে।”

জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে দক্ষিণ ভারত ও গুজরাটের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে— যার মধ্যে পাঁচটি বৈধ এবং তিনটি ভুয়ো সংস্থা ছিল। তা ব্যবহার করে এক হাজার ২৮৯ কেজি কোকেন এবং ৪০ কেজি হাইড্রোপনিক গাঁজা দিল্লিতে পাচার করা হয়েছিল। গত ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দক্ষিণ দিল্লির মহিপালপুরে ৫৬২ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তুষার গোয়েল-সহ চার জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর ওই বছরেই ১০ অক্টোবর পশ্চিম দিল্লির রমেশনগরের একটি দোকান থেকে আরও ২০৮ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়। এর পরে ১৩ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং গুজরাত পুলিশের যৌথ অভিযানে গুজরাতের অঙ্কলেশ্বরের আভকার ড্রাগস নামে একটি সংস্থায় তল্লাশি চালিয়ে ৫১৮ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দাবি, বাজেয়াপ্ত করা মাদক আন্তর্জাতিক বাজারে আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

ওই পুলিশ আধিকারিকের আরও বক্তব্য, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দুবাই হয়ে একাধিক পথে ভারতে মাদক ঢুকেছিল। এরপর সেগুলি একাধিক চালানে সড়কপথে গুজরাতের আভকার সংস্থায় পৌঁছোনোর কথা ছিল। সেখানে মাদকগুলির পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ হত। পুলিশের এ-ও অভিযোগ, এরপর ওই মাদক চিকিৎসা সংক্রান্ত পণ্য বা মেডিকেল কনসাইনমেন্ট হিসেবে গুজরাত থেকে বের করে দেওয়া হত। তা কাগজে-কলমে ‘ফার্মা সলিউশনস সার্ভিসেস’ নামে একটি ভুয়ো সংস্থার কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে দেখানো হত। পরে সেগুলি ওষুধের প্যাকেজ হিসেবে সড়কপথে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হত।

পুলিশের বক্তব্য, দুবাইয়ে বসে বীরেন্দ্র সিংহ বাসোয়া মাদক পাচার চক্রটিকে নেতৃত্ব দিতেন বলে তদন্তে উঠে আসে। দুবাইয়ে বসে মাদক পাচারকারীদের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে কাজ করত বীরেন্দ্র সিংহ বাসোয়া। উদ্ধার হওয়া সমস্ত মাদকই বীরেন্দ্র সিং বাসোয়ার পরিচালিত মাদক পাচারচক্রের অংশ। দক্ষিণ ভারত থেকে গুজরাতের আভকার কারখানায় ওষুধ তৈরির রাসায়নিক তৈরির কাঁচামাল হিসেবে মাদক পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

ঘটনায় বীরেন্দ্র সিংহ বাসোয়া, তাঁর ছেলে ঋষভ বাসোয়া (২৫) এবং তাঁদের সহযোগী ঋত্বিক বাজাজ (৩৬), প্রমোদ (৫০) এবং বিকাশ রানে (৪৯) এই পাঁচ জনকে ‘ঘোষিত পলাতক অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের চার্জশিটে ওই মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত ১৯ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই প্রকাশনা সংস্থার উত্তরাধিকারী তুষার গোয়েল। বাকি পাঁচজনের মধ্যে বাসোয়াও রয়েছেন। তাঁদের ‘পলাতক ঘোষিত অপরাধী’ ঘোষণা করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। মাদক মাফিয়া বীরেন্দ্র সিং বাসোয়াকে দুবাই থেকে প্রত‍্যর্পণ করে এনসিবি মাইলফলক তৈরি করেছে। অপরাধীদের সর্বক্ষণ নজরদারি চালিয়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি আবারও প্রমাণ করেছে, মাদক পাচারকারীরা বিশ্বের যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, দেশের আইনের দীর্ঘ হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।”


Share