Gang Rape

চলন্ত বাসে ফের নারকীয় নির্যাতন! দিল্লিতে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার চালক-কন্ডাক্টর, ফিরল নির্ভয়ার আতঙ্ক

নির্যাতিতার দাবি, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে জোর করে ভিতরে আটকে রেখে সারারাত ধরে গণধর্ষণ করে। ভোরের দিকে তাঁকে রাস্তার ধারে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১০:২৫

দিল্লিতে চলন্ত প্রাইভেট বাসের ভিতরে ফের এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। ২০২৬-এর রাজধানীতে যেন ফিরে এল ২০১২ সালের ভয়াবহ নির্ভয়া-কাণ্ডের স্মৃতি। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, দু’দিন আগে দিল্লির রানিবাগ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সোমবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে সরস্বতী বিহার বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি প্রাইভেট বাসে ওঠেন ওই তরুণী। কিন্তু বাসে ওঠার পর থেকেই পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয়। নির্যাতিতার দাবি, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে জোর করে ভিতরে আটকে রেখে সারারাত ধরে গণধর্ষণ করে। ভোরের দিকে তাঁকে রাস্তার ধারে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ঘটনার পরই ওই তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ এবং দ্রুত বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বাসটিও। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসে ওই সময় আর কেউ ছিল কি না, বাসের রুট, ঘটনাস্থল ও সিসিটিভি ফুটেজ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফরেনসিক ও মেডিক্যাল রিপোর্ট-সহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, নির্যাতিতা বিবাহিতা এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপরও নজর রাখা হচ্ছে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আবারও রাজধানীতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চলন্ত বাসে নারী নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় অনেকের মনেই ফিরে এসেছে ২০১২ সালের বহুচর্চিত নির্ভয়া-কাণ্ডের স্মৃতি। সেই ঘটনায় চলন্ত বাসে এক তরুণীকে নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ ও অত্যাচারের পর রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া সেই ঘটনার এত বছর পরেও দিল্লিতে নারী নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


Share