Supreme Court

দীপাবলির উপহার আদানপ্রদানের সংস্কৃতিই কি দিল্লির দূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ? বিত্তশালীদের সামাজিক প্রতিপত্তি প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট

বরং বিত্তশালী শ্রেণির একাংশের কাছে তা সামাজিক প্রতিপত্তি ও মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলেও মনে করছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:৫১

দিল্লির বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিষাক্ত বাতাসে কার্যত হাঁসফাঁস করছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির দূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দীপাবলিতে উপহার দেওয়া-নেওয়ার সামাজিক প্রবণতাকে চিহ্নিত করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের মতে, উৎসবের মরসুমে উপহার আদানপ্রদানের এই সংস্কৃতি এখন আর নিছক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিত্তশালী শ্রেণির একাংশের কাছে তা সামাজিক প্রতিপত্তি ও মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলেও মনে করছে আদালত।

শুক্রবার একটি মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় বার্ষিক দূষণ মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি ‘সাংস্কৃতিক পরিবর্তন’। তাঁর পর্যবেক্ষণ, দীপাবলিকে কেন্দ্র করে উপহার দেওয়া-নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা সমাজের বিত্তশালী অংশের মধ্যে প্রতিপত্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। উৎসবের সময়ে এই অতিরিক্ত কেনাকাটা ও তার সঙ্গে যুক্ত যানবাহনের আনাগোনাও দূষণের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ দিকে শুক্রবার দিল্লির গড় বায়ুগুণমান সূচক বা AQI পৌঁছোয় ৩৮৯-এ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের একাধিক এলাকায় দূষণের মাত্রা ৪০০-র গণ্ডিও পেরিয়ে যায়। অর্থাৎ রাজধানীর বাতাস কার্যত গুরুতর দূষণের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর দীপাবলি উদযাপনের আগে দিল্লির বিভিন্ন বাজারে কেনাকাটার ভিড়ও ক্রমশ বাড়ছে।

প্রধান বিচারপতির মতে, দিল্লির দূষণের জন্য শুধুমাত্র স্থানীয় যানবাহনকে দায়ী করলে সমস্যার পুরোটা বোঝা যাবে না। উৎসবের সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক গাড়ি রাজধানীতে প্রবেশ করে। সেই সমস্ত গাড়ির দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মান বা নির্গত ধোঁয়ার পরিমাণ পরীক্ষা করা কার্যত কঠিন।

এ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে গাড়ি দিল্লিতে ঢুকছে। সেগুলির ফিটনেস কিংবা কতটা বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে, তা যাচাই করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এমনকী কোনও গাড়ি মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য শহরে প্রবেশ করলেও দূষণের যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিল্লির দূষণ মোকাবিলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ও উৎসব পালনের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।


Share