Digital Arrest

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! ২৮ হাজার কোটির ব্যাঙ্ক লেনদেনের হদিস, মুম্বই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার আইনজীবী

এই মামলায় রশেশ উপাধ্যায় ওরফে রশেশ শাহ নামে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুম্বই
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৪

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে প্রতারণা থেকে শুরু করে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন—দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কথিত সাইবার অপরাধচক্রের তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় রশেশ উপাধ্যায় ওরফে রশেশ শাহ নামে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

শনিবার মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিল্লিগামী বিমানে ওঠার আগে তাঁকে আটক করেন পানাজির ইডি আধিকারিকরা। পরে তাঁকে গোয়ায় নিয়ে গিয়ে বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

ইডি সূত্রে খবর, তদন্তে এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লেনদেনের হদিস মিলেছে। পাশাপাশি প্রায় ২,৯০০ কোটি টাকা নগদ জমা পড়ার তথ্যও সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সাইবার প্রতারণায় ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গেলে সেগুলি ফের চালু করাতে ‘আঙ্গাড়িয়া’ নামে পরিচিত নগদ লেনদেনকারীদের মাধ্যমে ঘুষ দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন অভিযুক্ত।

২০২৫ সালের মে মাসে গোয়ার এক মহিলাকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে ২.৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই তদন্ত শুরু হয়। ইডির দাবি, প্রতারণার ওই টাকা প্রায় ৪০০টি মিউল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেশের ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে ৩০০-রও বেশি অভিযোগ এবং ১৬০টির বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রতারণার জেরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বলে তদন্তকারীদের দাবি।

এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে আর কারা রয়েছে, কীভাবে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণার টাকা সরানো হত এবং এর সঙ্গে আরও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ইডির আধিকারিকরা। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের আর্থিক লেনদেন ও অপরাধের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।


Share