Narendra Modi

কেন্দ্রে কি ফিরছে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ! মন্ত্রিসভা রদবদলের আগে দিল্লিতে জোর চর্চা, আলোচনায় অমিত শাহ-নীতীশ কুমারের নাম

সেই অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, আবার সংগঠন থেকে কিছু নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকজন প্রবীণ বা বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আসারও সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০১:২৯

তৃতীয় মোদী সরকারের দু’বছর পূর্ণ হতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপির অতীতের রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির মেয়াদের দু’বছর পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয়। অন্য দিকে, নীতিন নবীন বিজেপির সভাপতি হওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর নতুন সাংগঠনিক টিম ঘোষণা হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও বিজেপির সাংগঠনিক স্তর দুই ক্ষেত্রেই শিগগিরই বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিজেপি সূত্রের দাবি, এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল এবং দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন দুটিই হবে পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। সেই অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, আবার সংগঠন থেকে কিছু নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকজন প্রবীণ বা বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের ইঙ্গিত, অন্তত সাত-আট জন সাংসদ এ বার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। স্বাভাবিকভাবেই, বর্তমান মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। সম্ভাব্য নতুন মুখ কারা হতে পারেন এবং জোটের ভারসাম্য বজায় রাখতে  ও  কী কৌশল নেবেন, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।

কিন্তু সব আলোচনা ছাপিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা একটি নতুন বিষয়কে ঘিরে। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নাকি উপপ্রধানমন্ত্রী পদে একজনকে নিয়োগ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যদিও উপপ্রধানমন্ত্রীর পদটি সংবিধান স্বীকৃত নয়, এটি মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়। অতীতে জোটের ভারসাম্য রক্ষা বা দলের অন্দরে প্রভাবশালী নেতাকে বিশেষ মর্যাদা দিতে একাধিকবার এই পদে নিয়োগ করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট সাতজন উপপ্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন আডবাণী। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার ও দলে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

দেশের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মনমোহন সিংয়ের ১০ বছরের শাসনকাল এবং মোদীর টানা ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বে দেশে কোনও উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, বিজেপি আবারও উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছেন দু'জন শীর্ষ নেতা। প্রথমেই উঠে আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম। দল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁর প্রভাব ও গুরুত্ব সুপরিচিত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যের প্রেক্ষিতে তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করা হতে পারে বলেই জল্পনা।

অন্য দিকে, আলোচনায় রয়েছে নীতিশ কুমারের নামও। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ। মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর এখনও পর্যন্ত তাঁকে কেন্দ্রীয় স্তরে কোনও বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যেই জেডিইউ-র একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দাবি তুলেছেন, নীতীশ কুমারকে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হোক। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ফলে দেশে আদৌ নতুন করে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি হবে কি না, কিংবা হলে সেই দায়িত্ব কার কাঁধে যাবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।


Share