MHA Official Arrest

এফসিআরএ-র রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দুই আধিকারিক

সূত্রের খবর, আটক দু’জনের মধ্যে একজন সিনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদে কর্মরত রয়েছেন। অন্যজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদে কর্মরত রয়েছেন। ধৃতদের মধ্যে একজন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অন্যজন একটি পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসে কর্মরত ছিলেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২১

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ-এর অধীনে একটি সমাজসেবী সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। গতকাল, ২৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার পরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালায় দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল।

সূত্রের খবর, আটক দু’জনের মধ্যে একজন সিনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদে কর্মরত রয়েছেন। অন্যজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদে কর্মরত রয়েছেন। ধৃতদের মধ্যে একজন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অন্যজন একটি পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসে কর্মরত ছিলেন। তিনি এর আগে ফরেনার্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ওই দুই আধিকারিক কয়েকটি সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গে তাদের এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন এবং তাদের লাইসেন্স নবীকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ধৃতদের কার্যকলাপের সম্পূর্ণ তথ্য জানতে তদন্ত চলছে। এর পাশাপাশি, ধৃতেরা এর আগে অন্য কোনও সমাজসেবী সংগঠনের এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন বা নবীকরণ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নিয়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, দুর্নীতির বিষয়ে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এফসিআরএ সংক্রান্ত কোনও পরিষেবা করিয়ে দেওয়া বা দ্রুত করিয়ে দেওয়ার জন্য কোনও মধ্যস্থতাকারী, এজেন্ট, দালালের মাধ্যমে হয় না। রেজিস্ট্রেশন, আবেদন এবং লাইসেন্স নবীকরণ— এই সমস্ত কাজ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে করা হয়।

ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) আইন, ২০১০ ভারতে বিদেশি অনুদান এবং বিদেশি আতিথেয়তা গ্রহণ ও ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। বিদেশি উৎস থেকে অর্থ গ্রহণকারী দেশের ব্যক্তি, সমাজসেবী সংগঠন এবং সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হয়ে থাকে। এই আইনের উদ্দেশ্য হল, বিদেশি অনুদান যাতে একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এই বিদেশি অর্থ যাতে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনও কাজে যাতে ব্যবহার না করা হয়, তা নিশ্চিত করা।

চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত দেশের ১৪ হাজার ৪৫৬টি সমাজসেবী সংস্থার বিদেশি অর্থ গ্রহণ করার অনুমতি রয়েছে। এই আইনের অধীনে যে সমস্ত সমাজসেবী সংগঠন বিদেশি অনুদান পায় তা বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা।


Share