AQI Index

দীপাবলির আগেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢাকল দিল্লি! AQI ছাড়াল ৫২৫, চোখ খোলা দায়, দূষণ রুখতে জারি GRAP-III

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চোখ খোলা রাখাও দায় হয়ে উঠেছে। শনিবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৫২৫-এ পৌঁছে যায়, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৪

রাত পোহালেই দীপাবলি। তার আগে ভয়াবহ বায়ুদূষণে কার্যত বিপর্যস্ত দেশের রাজধানী দিল্লি। ধোঁয়ার চাদরে ঢেকে গিয়েছে গোটা শহর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চোখ খোলা রাখাও দায় হয়ে উঠেছে। শনিবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৫২৫-এ পৌঁছে যায়, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো হলে দূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ।

AQI.in-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিল্লির বায়ুর গুণমান সূচক ছিল ৩৬৯। শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮৭-তে। কিন্তু শনিবার সকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। সকাল ১০টা ১ মিনিট নাগাদ AQI একলাফে পৌঁছে যায় ৫২৫-এ। যদিও দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সেই পূর্বাভাস মাথায় রেখেই শুক্রবার রাত থেকে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে GRAP-III কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে চার পর্যায়ের জরুরি বিধিনিষেধ চালু করা হয়। এই ব্যবস্থার নাম গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান। দূষণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। বায়ুর গুণমান সূচক ৪০১ থেকে ৪৫০-এর মধ্যে থাকলে পরিস্থিতিকে ‘Severe’ বা ভয়াবহ বলে চিহ্নিত করা হয়। সেই পরিস্থিতিতে GRAP-এর তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়।

এই পর্যায়ের বিধিনিষেধের আওতায় দিল্লি-এনসিআর এলাকায় মাটি খোঁড়া, বাড়ি ভাঙা, রাস্তা তৈরি, পাইলিং এবং ইটের গাঁথনির মতো ধুলোর পরিমাণ বাড়ায় এমন নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে মেট্রো, রেল, হাসপাতাল এবং জাতীয় সড়কের মতো জরুরি প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ চালানো যাবে।

পাশাপাশি পুরনো গাড়ির চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। BS-III পেট্রল এবং BS-IV ডিজেল চালিত চার চাকার গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদ এবং গৌতম বুদ্ধ নগরেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট কিছু পুরনো ডিজেল গাড়ির চলাচলেও আরও কড়াকড়ি করতে পারে প্রশাসন। একই সঙ্গে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে পাথর ভাঙার ক্রাশার এবং খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দূষণের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পরিস্থিতি এবং পরিকাঠামো অনুযায়ী স্কুলে গিয়ে অথবা অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারবে তারা। অন্য দিকে, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ক্ষেত্রেও বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার চাইলে অফিসের ৫০ শতাংশ কর্মীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অনুমতি দিতে পারে।

দীপাবলির আগে দিল্লির এই ভয়াবহ দূষণ পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উৎসবের রাতে বাজি পোড়ানো হলে বায়ুর গুণমান আরও তলানিতে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা। ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


Share