AQI Index

শীতের শুরুতেই বিষাক্ত দিল্লির বাতাস! দূষণ রুখতে ৩ মাসের কড়া বিধিনিষেধ, নিষিদ্ধ পুরনো গাড়ি, ৫০ শতাংশ কর্মীর ওর্য়াক ফর্ম হোম

রবিবার, ১ নভেম্বর থেকেই রাজধানীতে কার্যকর হল একগুচ্ছ বিধিনিষেধ। নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের নীচে থাকা পুরনো যানবাহনের চলাচল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮

শীতের শুরুতেই দূষণের ভয়াবহ থাবা! ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে রাজধানী দিল্লির বাতাস। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বায়ুর গুণমানের সূচক ‘খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ বার দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করল দিল্লি সরকার। রবিবার, ১ নভেম্বর থেকেই রাজধানীতে কার্যকর হল একগুচ্ছ বিধিনিষেধ। নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের নীচে থাকা পুরনো যানবাহনের চলাচল। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিএস৬ নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে না, এমন যানবাহন দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না। ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। তবে বৈদ্যুতিক ও সিএনজিচালিত যানবাহনের পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স এবং দমকলের গাড়িকে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। নিয়ম কার্যকর করতে বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম মোতায়েনের পাশাপাশি ব্যবহার করা হবে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (আইসিসিসি)। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের কাছে পাঠানো হবে ই-চালান। উল্লেখ্য, দূষণ মোকাবিলায় গত ২১ অক্টোবর থেকেই রাজধানীতে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের প্রথম পর্যায় কার্যকর হয়েছে।

পাশাপাশি, দূষণের অন্যতম কারণ নির্মাণকাজের ধুলো নিয়ন্ত্রণেও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে সমস্ত নির্মাণকাজ এবং বাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ থাকবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু অত্যাবশ্যকীয় সরকারি প্রকল্পকে শর্তসাপেক্ষে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যানজট ও গাড়ির ধোঁয়া কমাতে বদলানো হয়েছে সরকারি অফিসের সময়সূচিও। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অফিস চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। অন্য দিকে, দিল্লি সরকারের অফিস খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে দ্বিগুণ করা হয়েছে পার্কিং ফি।

এখানেই শেষ নয়, দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ বার পেট্রল পাম্পগুলিতেও কড়াকড়ি। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র না থাকলে ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির কোনও পেট্রল পাম্পে মিলবে না জ্বালানি। এই নিয়ম কার্যকর করতে রাজধানীর ৫০০টি পেট্রল পাম্পে বসানো হয়েছে এএনপিআর ক্যামেরা। গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করে তার তথ্য যাচাই করবে এই প্রযুক্তি। কোনও গাড়ির পিইউসি শংসাপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে সেই গাড়িকে আর জ্বালানি দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে শীতের মরশুমে দিল্লির ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ মোকাবিলায় একাধিক কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল প্রশাসন।


Share