Cockroach Janata Party

৩৬ দিনের যন্তর মন্তরের আন্দোলনের ইতি, নড্ডা-জিতেন্দ্রর আশ্বাসে অবস্থান বিক্ষোভ প্রত্যাহার সিজেপির

যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করল সিজেপি। জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকে দাবি মানার আশ্বাস মেলায় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা সংগঠনের।

যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করল সিজেপি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ০৭:২৭

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহারের ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। এরপরই আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি।

শনিবারও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার উপস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন তাঁরা। সৌরভ দাস জানান, ‘‘সদিচ্ছার সঙ্গেই অবস্থান প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আমরা আশা করি তাদের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই সব শর্ত পূরণ করবে সরকার।’’ সিজেপির দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৬ জুন বস্টন থেকে দিল্লিতে ফেরেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এরপর থেকেই রাজধানীর রাজপথে দফায় দফায় আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। শুধু তরুণ-তরুণীরাই নন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষেরও ব্যাপক সমর্থন ও অংশগ্রহণ দেখা যায় সেই আন্দোলনে। ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে সংগঠনটি। টানা ৩৬ দিন ধরে সেই কর্মসূচি চলার পর শনিবার অবস্থান প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়। তবে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকারের কাছে তারা কোনওভাবেই মাথা নত করেনি। তাদের দাবি, সরকার আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তাঁর অপসারণ। ইস্তফার পরই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি যন্তর মন্তরে চলা অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেবে সিজেপি? যদিও বৈঠকের আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নয়, তাদের বাকি দাবিগুলিও কেন্দ্রকে মেনে নিতে হবে। সেই দাবিগুলি পূরণের আশ্বাস পেলেই আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে বৈঠক শেষে সিজেপি-কে অবস্থান তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন জেপি নড্ডা এবং জানান, তাদের সমস্ত দাবি পূরণের উদ্যোগ নেবে কেন্দ্র।

সিজেপির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন কোনও ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ না করা হয়। সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ জানান, কেন্দ্র সরকার সেই দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই দাবি শুধু দিল্লিতে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেই সব মামলা তোলার দাবি ছিল। সেই দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।’’ তিনি আরও জানান, শীঘ্রই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এখনও পর্যন্ত যে সব এফআইআর দায়ের হয়েছে, তার প্রতিলিপিও বিক্ষোভকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সৌরভের দাবি, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই সরকার এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন করবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের দাবিদাওয়া সম্বলিত একটি খসড়াপত্র জমা দেয় সিজেপি। বৈঠক শেষে জে পি নড্ডা জানান, সেই খসড়াপত্র খতিয়ে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতেও সিজেপি-র সঙ্গে কেন্দ্রের আরও দফায় আলোচনা চলবে। বৈঠকে সিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল, নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মঘাতী হওয়া পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সংগঠনের দাবি, এই বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কেন্দ্র। সিজেপি নেতা আশুতোষ বলেন, ‘‘সরকার নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় মেনে নিয়েছে।’’ এ ছাড়াও বাকি দাবিগুলিও পূরণের আশ্বাস মেলায়, নিজেদের সিদ্ধান্তেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করেছে সিজেপি।


Share