CJP Protest

দিল্লির ককরোচদের বিক্ষোভে ‘বিদেশি যোগ’? জ্ঞানেশ-আন্দোলনকে সমর্থন নাহিদ ইসলামের, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নতুন বিতর্ক শুরু

দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভকে বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের সমর্থন ঘিরে নতুন বিতর্ক। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা ও আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি তুলেছেন তিনি।

ককরোচদের আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বাংলাদেশের নেতা নাহিদ ইসলামের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৩

জ্ঞানেশ-আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। দিল্লিতে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশের এক নেতার প্রকাশ্য অবস্থানকে কেন্দ্র করে উঠছে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে। যদিও নাহিদের সমর্থনবার্তা পরে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ককরোচের সাথে ‘বিদেশি যোগ’-এর প্রসঙ্গ জোরালো হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

শনিবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে যন্তর মন্তরের অভিযান ‘ফ্লপ’ হয়েছে। দু’হাজারের বেশি আন্দোলনকারী আটক হয়েছে। জমায়েতে ‘ফ্লপ’ হতে চলেছে দেখেই আগেভাগেই ককরোচ নেতারা পুলিশের হাতে ধরা দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছে। রবিবারও রাজধানীর কনট প্লেসে কমিউনিস্টরা বিক্ষোভ দেখায়। সোমবার দিল্লিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল ইন্ডি জোটের নেতারা। কিন্তু প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। যদি কোনও অভিযোগ থাকে তা হলে মামলা করার জন‍্য পরামর্শ দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতেই সমাজমাধ‍্যমে পোস্ট করে ককরোচদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, ভারতে নির্বাচন ব্যবস্থা‘স্বচ্ছ’ নয়। ‘প্রমাণ ছাড়া’ সাংবিধানিক সংস্থার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ভারতীয় যুবসমাজের প্রতিবাদ নাকি প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশের নেতা নাহিদ ইসলাম ভারতের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ব্যারিকেড বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না। এমনকী, দিল্লিতে আটক হওয়া ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিও তোলেন নাহিদ। তাঁর কথায়, সীমান্তের বেড়া পেরিয়ে তাঁরা আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছেন।

নিজের বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও টানেন নাহিদ। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন কীভাবে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছিল, তা উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ নাহিদ এর আগে ভারত-বিরোধী মন্তব্যের জন্যও বিতর্কে জড়িয়েছেন।

যন্তর মন্তরে ককরোচদের বিক্ষোভের আগে ভারতে এসেছে মোদী বিরোধী ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। একাংশের দাবি, ধ্রুব বিদেশি নাগরিক। সমাজমাধ‍্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানোর ‘ওস্তাদ‍’ ধ্রুব রাঠীকে শনিবার সকালেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। রবিবার রাতে নিজের বয়ান বদল করে ধ্রুব বলেন, তাঁর সাথে ককরোচ পার্টির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর এ-ও দাবি ছিল, আমেরিকার জর্জ সোরসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। ককরোচদের আন্দোলনে যখন বিদেশি যোগের অভিযোগ উঠছে এ বার প্রতি তাঁর নাহিদের সমর্থন ঘিরে সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে।


Share