Supreme Court

‘বিচার বিভাগের মানহানি বরদাস্ত নয়’ এনসিইআরটির সিলেবাসের অধ‍্যায় নিয়ে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিচার বিভাগের মানহানি বা অবমাননা তিনি হতে দেবেন না। তাঁর কথায়, ‘বার এবং বেঞ্চ উভয়ই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। হাইকোর্টের সমস্ত বিচারপতিও উদ্বিগ্ন। আমি জানি কী ভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে। আমি এই বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিবেচনা করব। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।’

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:০৭

বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা ব্যাখ্যার আড়ালে ‘দুর্নীতি’র প্রসঙ্গ তোলা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, এমনই কড়া বার্তা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বুধবার তিনি এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের ‘সমাজে বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায় নিয়ে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়টি বিচার বিভাগের উপর ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’-এর সামিল।

উল্লেখ্য, এনসিএআরটি-এর অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে বিচার বিভাগের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, রায়দানে বিলম্ব, বিচারকের অভাব এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মতো বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল সংখ্যক অমীমাংসিত মামলার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করাকেই মূল আপত্তির কারণ হিসেবে দেখছেন বিচার বিভাগের সদস্যরা।

বইয়ের তথ্যানুসারে, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৮১ হাজার মামলা, বিভিন্ন হাই কোর্টে মিলিয়ে প্রায় ৬২.৪ লক্ষ মামলা এবং জেলা ও নিম্ন আদালতগুলোতে প্রায় ৪.৭ কোটি মামলা এখনও বিচারাধীন। ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রিতা ও মামলার চাপকে বইয়ে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিচার বিভাগের মানহানি বা অবমাননা তিনি হতে দেবেন না। তাঁর কথায়, ‘বার এবং বেঞ্চ উভয়ই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। হাইকোর্টের সমস্ত বিচারপতিও উদ্বিগ্ন। আমি জানি কী ভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে। আমি এই বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিবেচনা করব। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।’

মঙ্গলবার সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বাল প্রথম এই বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচার বিভাগীয় দুর্নীতি শেখাচ্ছে। মন্ত্রী, সরকারি কর্মচারী, তদন্তকারী সংস্থা সহ রাজনীতিবিদদের ব্যাপক দুর্নীতির কী হবে? এটি একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।’

সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি-ও আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘এ ভাবে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে, কিন্তু কেন কেবল বিচার বিভাগীয় দুর্নীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?’

শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়টি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে।


Share