Delhi Blast

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের চার মাস পর চার্জশিট পেশ, ইসলামিক জঙ্গি শাহিন শহিদ-সহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতকে জানাল পুলিশ

একটি বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, ‘অভিযুক্তেরা অত্যন্ত গোপনে মডিউল তৈরি করে সক্রিয় ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নিত্য নতুন সদস্য নিয়োগ করত। সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।”

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৯

দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণ কাণ্ডে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। ঘটনায় চার মাস পরে চার্জশিট পেশ করল জম্মু-কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। আত্মঘাতী ইসলামিক জঙ্গি উমর উন নবি, আল ফালহা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক শাহিন শহিদ-সহ ১০ জনের নাম চার্জশিটে রয়েছে।

লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের পর থেকেই গোটা দেশ জুড়ে তল্লাশি শুরু করে দিল্লি পুলিশ। জম্মু কাশ্মীর পুলিশ ও এনআইএ যৌথ ভাবে তদন্ত শুরু করে। এর পর শুরু হয় গ্রেফতারির পর্ব। সেই তদন্তেই ট্রায়াসিটন ট্রাইপারক্সাইড (টিএটিপি) নামে এক ধরনের বিস্ফোরকের হদিশ মিলেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দিল্লির হামলাতেও এই বিস্ফোরকই ব্যবহার করা হয়েছিল। ট্রায়াসিটন ট্রাইপারক্সাইডের সঙ্গে অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোমা তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

চার্জশিটে ইসলামিক জঙ্গি আরিফ নিসার দার (ওরফে সাহিল), ইয়াসির-উল-আশরাফ ভাট, মকসুদ আহমদ দার (ওরফে শাহিদ), ইরফান আহমদ ওয়াগে (ওরফে ওয়াইস), জামির আহমদ আহাঙ্গার (ওরফে মুতলাশি), তুফাইল আহমদ ভাট, ডা. মুজাম্মিল শাকিল গনাই, ডা. আদিল আহমদ রাঠার, শাহিন শহিদ এবং উমর উন নবির নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে নবি দিল্লি বিস্ফোরণে আত্মঘাতী জঙ্গি। উমর উন নবিই লালকেল্লার সামনে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্তে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে চার্জশিটে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। একটি বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, “অভিযুক্তেরা অত্যন্ত গোপনে মডিউল তৈরি করে সক্রিয় ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নিত্য নতুন সদস্য নিয়োগ করত। সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।” পুলিশের দাবি, মডিউলের চিকিৎসকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জঙ্গি কাজকর্মের প্রচার চালাত। বিস্ফোরক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করত। আর বাকিরা তৃণমূল স্তরে কাজ করত।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ নভেম্বর তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দিল্লি। লালকেল্লার কাছে মেট্রোর সামনের সিগন্যালে এসে থেমেছিল একটি সাদা রঙের গাড়ি। ঘুণাক্ষরেও কারও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন প্রায় ৫০ জন।


Share