CBSE

স্ক্যান কপি থেকে নম্বর বিভ্রাটের অভিযোগে চাপে সিবিএসসি, নতুন চেয়ারম্যান-সেক্রেটারি নিয়োগ কেন্দ্রের

অনেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, তাদের হাতে পাওয়া স্ক্যান কপির লেখা মূল উত্তরপত্রের সঙ্গে মিলছে না। ফলে উত্তরপত্র অদলবদল বা মূল্যায়নে ভুলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিবিএসসি বোর্ড
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ০২:১৯

সিবিএসসির অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহেই বড় প্রশাসনিক রদবদল করল কেন্দ্র সরকার। বুধবার সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে লোকহান্ডে প্রশান্ত সীতারামকে। একই সঙ্গে বোর্ডের নতুন সেক্রেটারি হয়েছেন বরুণ ভরদ্বাজ। এর আগে চেয়ারম্যান পদে ছিলেন রাহুল সিং এবং সেক্রেটারি ছিলেন হিমাংশু গুপ্ত।

চলতি বছরের বোর্ড পরীক্ষায় ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর পর থেকেই একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের দাবি, স্ক্যান করা উত্তরপত্রে অসংগতি, নম্বর প্রদানে গরমিল এবং পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, তাদের হাতে পাওয়া স্ক্যান কপির লেখা মূল উত্তরপত্রের সঙ্গে মিলছে না। ফলে উত্তরপত্র অদলবদল বা মূল্যায়নে ভুলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব হোম-এ অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত লোকহান্ডে প্রশান্ত সীতারামকে অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদায় সিবিএসসির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটির নির্দেশে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাহুল সিংকে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকে অতিরিক্ত সচিব পদে পাঠানো হয়েছে।

নতুন সেক্রেটারি বরুণ ভরদ্বাজ এর আগে শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দপ্তরে ডিরেক্টর পদে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে সেন্ট্রাল স্টাফিং স্কিমের আওতায় ২০২৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিবিএসসির সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হিমাংশু গুপ্তকে প্রশাসনিক কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর মূল ক্যাডারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশে জানানো হয়েছে, তিনি ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আর কোনও কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে যেতে পারবেন না।

ওএসএম পরিষেবা কেনা এবং সংশ্লিষ্ট টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে এক সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে কেন্দ্র। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে এস রাধা চৌহানকে। তাঁকে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অন্য সরকারি দফতরের আধিকারিকদের সহযোগিতা নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে প্রশাসনিক সহায়তা করবে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সিবিএসসির ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর পর। চলতি বছর থেকে দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। ফল প্রকাশের পর বহু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে, স্ক্যান কপি ঝাপসা, একাধিক পৃষ্ঠা অনুপস্থিত অথবা প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে উত্তরপত্রের মিল নেই। পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালে পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়া এবং পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা দিতে সমস্যার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে।

এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে শুরু করেছে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, শুধুমাত্র আধিকারিকদের বদলি করে সরকার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এই পদক্ষেপকে ‘চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

এ দিকে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পুনর্মূল্যায়ন ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের বিশেষ পোর্টাল চালু করেছে সিবিএসসি। যেসব পরীক্ষার্থী স্ক্যান করা উত্তরপত্র পেয়েছে, তারাই নির্দিষ্ট প্রশ্নের পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।


Share