Murder Case

‘আমার ছেলেকে সব্জির মতো কেটে দিয়েছে’, মধ‍্যপ্রদেশের বিগাউড়িতে কুয়ো থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃত তিনজন

পুলিশের সন্দেহ, বচসার পর ভাইয়ালালকে মারধর করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর তাঁর দেহ কুয়োর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ভাবে অনুমান করছেন।

মধ‍্যপ্রদেশের বিগাউড়িতে কুয়ো থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃত তিনজন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মধ্যপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৯

যুবককে পিটিয়ে তারপরে শ্বাসরোধ করে খুন করে ফেলে দেওয়া হয় একটি কুয়োতে। যুবকের মায়ের বক্তব্য, তাঁদের ছেলেকে সব্জির মতো কেটেছে। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মধ‍্যপ্রদেশের বিগাউড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। নিরাপত্তাহীনাতায় গ্রাম বাসিন্দারা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর মধ‍্যপ্রদেশের বিগাউড়ি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম ভাইয়ালাল ওরফে ভাইয়ান কোলের (৩৫)। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের। ওই দিন রাতে গ্রামের একটি কুয়ো থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভাইয়ালাল বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বেরিয়ে একটি কুয়োর সামনে তিন জনের সঙ্গে দেখা যায়। সেখানে কয়েক জন যুবকের সঙ্গে মদ্যপান করছিলেন। সেই সময় কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পুলিশের সন্দেহ, বচসার পর ভাইয়ালালকে মারধর করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর তাঁর দেহ কুয়োর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ভাবে অনুমান করছেন।

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম— আফসর খান (৩৫), ইসমাইল ওরফে পাপ্পু খান (৪৯) এবং আজমের খান (৩৫)। তিন জনই পাশের বাদরখা গ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার খুন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ভাইয়ালাল কোল আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনও ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছে।

তবে ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল এবং খুনের নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কারণ কী— তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে ভাইয়ালালের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

ভাইয়ালালের মৃত্যুর পর সমাজমাধ‍্যমে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে পরিবারের এক সদস্যকে ঘটনার নৃশংসতা নিয়ে অভিযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা ওই গ্রামে থাকতে ভয় পাচ্ছেন বলেও ভিডিয়োতে দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, ‘‘ওরা আমার ছেলেকে সব্জির মতো কেটে দিয়েছে।’’

তবে পরিবারের এই বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভাইয়ালালের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই তা স্পষ্ট হবে বলে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন।

এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় কয়েক জন বাড়ির বিক্রি করে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন বলেও জানা গিয়েছে। কয়েকটি পরিবার তাঁদের বাড়ির বাইরে ‘घर बिकाऊ है’ অর্থাৎ ‘বাড়ি বিক্রির জন্য’ লিখে রেখেছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁরা নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানা গিয়েছে।

এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে একই গ্রামে একাধিক গুরুতর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। গত শিবনারায়ণ তিওয়ারি নামে এক যুবককে খুনের অভিযোগ ওঠে।  তাঁর বাড়িতে বন্ধুর সঙ্গে মদ্যপানের সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।ওই ঘটনায় সাহিল খানকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ।

সেই ঘটনাটি ঘিরে সেই সময় বিগাউড়ি ও আশপাশের এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এলাকায় একটি হিন্দু মহাপঞ্চায়েতও অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গিয়েছে সেখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি ওঠে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

বিগাউড়ি ছোট একটি গ্রাম। যদিও প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভাইয়ালালের মৃত্যুর পর গত ২২ সেপ্টেম্বর বিগাউড়ি গ্রামে যান মাইহারের পুলিশ সুপার অবধেশপ্রতাপ সিংহ। সেখানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। গ্রামবাসীদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বস্ত করেন পুলিশ সুপার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনও ধরনের গুজব বা উত্তেজনায় কান না দেওয়ার জন্যও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।


Share