Accident

বিহারে গঙ্গায় নৌকাডুবি, মৃত ১৪! নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নাবালক, শোকের ছায়া বৈশালীতে

এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃতদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ১৫ বছর বা তার কম। মঙ্গলবার রাতে বিহারের বৈশালী জেলার রাঘোপুর থানা এলাকার রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনার পরের মুহুর্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিহার
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৬

পাশের গ্রামে ভোজের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে গঙ্গা পার হওয়ার সময় মাঝনদীতে আচমকাই উল্টে যায় নৌকা। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃতদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ১৫ বছর বা তার কম। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বৈশালী জেলার রাঘোপুর থানা এলাকার রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের কাছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ১৫ থেকে ২০ জন শিশু-কিশোরকে নিয়ে একটি নৌকা পাশের গ্রামে ভোজের আসরে যাচ্ছিল। যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, ভোজ খেয়ে ফেরার পথেই নৌকাটি গঙ্গায় উল্টে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। স্থানীয় ডুবুরিদের সাহায্যে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।

বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই প্রশাসনের তরফে তৎপরতা শুরু করা হয়। প্রথমদিকে সাতজনকে উদ্ধার করে নালন্দা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান তিনি। পরে একের পর এক দেহ উদ্ধার হতে থাকে। প্রশাসনিক সূত্রে প্রথমে ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও, পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হয়। রাঘোপুরের বিধায়ক তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের সর্বশেষ দাবি অনুযায়ী, গঙ্গা থেকে মোট ১৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছেন। ছ'জন হাসপাতালে ভর্তি এবং তিনজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করেন তেজস্বী। রাঘোপুর দিয়ারা এলাকায় এতগুলি শিশুর ডুবে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত উদ্ধারকাজ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি। জেলাশাসক বর্ষা সিং-সহ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন আরজেডি নেতা। শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

বৈশালীর এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবার পিছু দু'লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। শোকবার্তা দিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনও। নিখোঁজদের নিরাপত্তা কামনা করার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে, বিহার সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবার পিছু চার লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এই দুর্ঘটনা ফের নদীপথে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কী কারণে মাঝগঙ্গায় নৌকাটি ডুবে গেল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এখনও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে গঙ্গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।


Share