Bastar Maoist Collapse

লাল করিডরে বড় ধাক্কা! বস্তারে ১০৮ মাওবাদী জঙ্গির আত্মসমর্পণ, উদ্ধার কোটি কোটি টাকা ও অস্ত্রভাণ্ডার

২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশ থেকে মাওবাদী জঙ্গি সমস্যা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন। সেই সময়সীমার মাত্র কয়েক দিন আগে এই ‘মাস সারেন্ডার’কে প্রশাসনিক কৌশলের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ছত্তীসগঢ়
  • শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৯

লাল করিডরে কি তবে সূর্যাস্তের সময় ঘনিয়ে এল? ছত্তিশগঢ়ের বস্তারে বুধবার যা ঘটল, তাকে গত কয়েক দশকের মধ্যে মাওবাদী দমন অভিযানের অন্যতম বৃহত্তম সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। একদিকে ১০৮ জন সক্রিয় মাওবাদী জঙ্গি সদস্য অস্ত্রত্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরেছেন, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদীদের গোপন ডাম্প থেকে উদ্ধার করেছে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ এবং বিপুল পরিমাণ সোনা।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশ থেকে মাওবাদী সমস্যা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন। সেই সময়সীমার মাত্র কয়েক দিন আগে এই ‘মাস সারেন্ডার’কে প্রশাসনিক কৌশলের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারী ১০৮ জন মাওবাদী জঙ্গির মাথার উপর সম্মিলিত পুরস্কারের মূল্য ছিল প্রায় ৩.৯৫ কোটি টাকা। এদের মধ্যে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এই অভিযানে ইতিহাসে এই প্রথম এত বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ৩.৬১ কোটি টাকার নগদ এবং প্রায় এক কেজি ওজনের সোনা উদ্ধার করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১.৬৪ কোটি টাকা। কর্মকর্তাদের মতে, এটিই মাওবাদীদের সবচেয়ে বড় গোপন ডাম্প বা ভাণ্ডার।

এই তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একে ৪৭ রাইফেল, ইনসাস রাইফেল, লাইট মেশিনগান, কার্বাইন, এসএলআর, বিজিএল লঞ্চার এবং প্রচুর পরিমাণে মর্টার ও থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল।

ছত্তিশগড়ের ডিজিপি অরুণ দেব গৌতম জানিয়েছেন, সরকারের ‘পুনা নারকোম’ বা ‘নতুন সকাল’ অভিযানের প্রভাবেই মাওবাদী নেটওয়ার্ক ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। তাঁর কথায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট দু'হাজার ৭১৪ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন।

এই ঘটনাকে বস্তারে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে ‘নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও বিশ্বাস’ এই ত্রিমুখী নীতির ফলেই এই সাফল্য আসছে। তবে সাফল্য সত্ত্বেও আত্মতুষ্টিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী ভুগতে নারাজ। সিআরপিএফের ডিজি জি.পি. সিং জওয়ানদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, বনাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা আইইডি এখনও বড় ঝুঁকি তৈরি করে আছে। তবু যে হারে শীর্ষ নেতারা অস্ত্রত্যাগ করছেন, তাতে ছত্তিশগড়ের গভীর জঙ্গলে মাওবাদীদের আধিপত্য ধীরে ধীরে অস্তাচলের দিকেই এগোচ্ছে। 


Share