Demolition

লুটিয়েন্স দিল্লিতে বড় ধাক্কা! ৫ জুনের মধ্যে জিমখানা ক্লাব খালি করার নির্দেশ কেন্দ্রের, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উচ্ছেদ নোটিস

প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই জমির প্রয়োজন বলেই উচ্ছেদ নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

দিল্লির জিমখানা ক্লাব
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৩:০০

লুটিয়েন্স দিল্লির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান দিল্লির জিমখানা ক্লাবকে আগামী ৫ জুনের মধ্যে ২৭.৩ একর জমি খালি করার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই জমির প্রয়োজন বলেই উচ্ছেদ নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। নোটিস পাওয়ার পর ক্লাবের গভর্নিং কাউন্সিলও জরুরি বৈঠকে বসে।

গত ২২ মে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনস্থ ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর ক্লাবকে উচ্ছেদের নোটিস পাঠায়। নোটিসে জানানো হয়েছে, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই অবস্থিত এই ক্লাবের জমি লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। লিজ় চুক্তির চার নম্বর ধারা প্রয়োগ করে ভারতের রাষ্ট্রপতি সেই চুক্তি বাতিল করেছেন। কেন্দ্রের নির্দেশ, ৫ জুনের মধ্যে ক্লাবের জমি ও সমস্ত ভবন সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে, না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে সরকারের নিয়োগ করা একটি কমিটি ক্লাব পরিচালনা করছে। ফলে ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে সরাসরি আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ক্লাবের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

১৯১৩ সালে ব্রিটিশ আমলে ‘ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। পরে স্বাধীনতার পর নাম বদলে হয় দিল্লি জিমখানা ক্লাব। ১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট টি রাসেল এই কমপ্লেক্সের নকশা তৈরি করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এটি রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ক্লাব হিসেবে পরিচিত, যেখানে উচ্চপদস্থ আমলা, কূটনীতিক, সেনা আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

২০২২ সালেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্র সরকার ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এ বার উচ্ছেদের নির্দেশ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ক্লাবের প্রায় ৬০০ কর্মচারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে। কর্মীদের অভিযোগ, ৫ জুনের পর তাঁদের চাকরি থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের এক আধিকারিকের বক্তব্য, কোনও বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া এত বড় এবং ঐতিহাসিক একটি প্রতিষ্ঠান আচমকা বন্ধ করে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।


Share