Murder

নৈশভোজের নামে বাড়িতে ডেকে মাংস-ভাতে ঘুমের ওষুধ! টিভির আওয়াজ বাড়িয়ে একে একে সাত খুন, বাবার সঙ্গে হাত মেলাল নাবালিকা মেয়ে

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন ট্যাক্সিচালক এস ইন্দুশেখর এবং তাঁর নাবালিকা কন্যা। পুলিশ সূত্রে খবর, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে পরিকল্পনা করে একের পর এক সাত জনকে খুন করেছেন ইন্দু।

অভিযুক্ত ক্যাবচালক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বেঙ্গালুরু
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:০৮

নৈশভোজের নামে বাড়িতে ডেকে এনে মাংস-ভাত খাওয়ানো হত। সেই খাবারের মধ্যেই ঘুমের ওষুধ মেশানো থাকত। খেয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলত। এমনকি খুনের সময় জোরে টিভি চালিয়ে রাখত অভিযুক্তরা, যাতে প্রতিবেশীরা কোনও আওয়াজ শুনতে না পান। বেঙ্গালুরুর সাত খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে এমনই শিউরে ওঠার মতো তথ্য। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ট্যাক্সিচালক এস ইন্দুশেখর এবং তাঁর নাবালিকা কন্যা গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে পরিকল্পনা করে ইন্দু একের পর এক সাত জনকে খুন করেছেন। পুরো ঘটনায় তাঁকে সাহায্য করেছে তাঁর মেয়ে।

এখনও পর্যন্ত সাত জনের মধ্যে তিন জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি চার জনের দেহের সন্ধানে ১২টি দল গঠন করে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। তামিলনাড়ুর সালেমের একটি জঙ্গল থেকে ইন্দুশেখরের স্ত্রী সুনীতা এবং শাশুড়ি রূপবতীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে বেঙ্গালুরুর নন্দন পাহাড়ের কাছে সুনীতার সাত বছরের ভাইপোর দেহ উদ্ধার হয়েছিল।

তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর ইন্দু প্রথমে স্ত্রী সুনীতাকে খুন করেন। পরের দিন মাংস-ভাত খাওয়ানোর অছিলায় দিদা রূপবতীকে বাড়িতে ডেকে পাঠায় ইন্দুর মেয়ে। রাতে তিনি বাড়িতে পৌঁছোন। আগে থেকেই ঘুমের ওষুধ খাবারের মধ্যে মিশিয়ে রাখা হয়েছিল। খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়তেই ইন্দু ও তাঁর মেয়ে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে তাঁকে। হত্যাকাণ্ডের সময় জোরে টিভি চালিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে প্রতিবেশীরা কোনও শব্দ শুনতে না পান। পরে সুনীতা ও রূপবতীর দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে বস্তাবন্দি করে তামিলনাড়ুর একটি নির্জন জায়গায় ফেলে আসা হয়।

এর দু’দিন পর একই কায়দায় সুনীতার সাত বছরের ভাইপোকে খুন করা হয়। তার দেহ গাড়িতে করে নন্দন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ফেলে আসা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সুনীতার দুই দাদা ও তাঁদের স্ত্রীদেরও আলাদা আলাদা করে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে মাংস-ভাত খাওয়ানো হয়। একই পদ্ধতিতে তাঁদের খুন করে গাড়িতে দেহ চাপিয়ে অন্যত্র ফেলে আসে বাবা-মেয়ে।

এ দিকে, ইন্দুর গাড়ি থেকে প্রচুর পারফিউমের কৌটো উদ্ধার হয়েছে। কেন এত পারফিউম গাড়িতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। পুলিশের অনুমান, দেহে পচন ধরার পর দুর্গন্ধ আড়াল করতেই সেগুলি ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। শুধু তাই নয়, স্ত্রী, শাশুড়ি এবং দুই শ্যালকের স্ত্রীর গায়ে থাকা সোনার গয়নাও ইন্দু খুলে নিয়েছিলেন। দেহ সরানোর আগে গয়নাগুলি খুলে নেওয়া হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সেগুলি বিক্রি করা হয়েছে, নাকি কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত বুধবার গাড়ি-সহ ইন্দুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সময় তাঁর গাড়ির ভিতরে ১০ বছরের এক বালককেও দেখতে পান তদন্তকারীরা। ওই শিশুটি ইন্দুর এক শ্যালকের ছেলে। পুলিশের সন্দেহ, অভিযুক্ত তাকেও খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে তার আগেই তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে ইন্দু ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের প্রতিও তাঁর সন্দেহ ও ক্ষোভ ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। প্রায় তিন কোটি টাকার একটি সম্পত্তি নিয়েও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বিবাদ চলছিল তাঁর। এই পারিবারিক অশান্তি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখেই সাত খুনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।


Share