Murder

পারিবারিক অশান্তির ভয়াবহ পরিণতি! স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই শ্যালক-সহ শ্বশুরবাড়ির সাত জনকে খুনের অভিযোগ ক্যাবচালকের, দেহ ফেলা হল শহরের বিভিন্ন প্রান্তে

অভিযোগ, পরপর সাত জনকে খুনের পর তাঁদের দেহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ফেলে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর ওরফে শেখর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বেঙ্গালুরু
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০১:০৪

বাপের বাড়ির একের পর এক সদস্য নিখোঁজ! তাঁদের খোঁজে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাড়ির বউ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও খুন হলেন স্বামীর হাতে। স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই শ্যালক, দুই শ্যালিকার পরিবারের সদস্য এবং সাত বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বেঙ্গালুরুতে। অভিযোগ, পরপর সাত জনকে খুনের পর তাঁদের দেহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ফেলে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর শ্রীরামপুর এলাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর ওরফে শেখর। রাজাজিনগরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি পেশায় ক্যাবচালক। তাঁর স্ত্রী সুনীতা-সহ শ্বশুরবাড়ির সাত জনকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুনীতার মা রূপবতী, দুই ভাই শিবকুমার ও শঙ্কর, পরিবারের দুই মহিলা সদস্য দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনীত।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। প্রায় ২০ বছর আগে সুনীতার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শেখরের। দাম্পত্য কলহের জেরে দু'জনের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। সেই সময় সুনীতার বাপের বাড়ির লোকজন হস্তক্ষেপ করতেন এবং তাঁকে সমর্থন করতেন বলে জানা গিয়েছে। স্ত্রীর পরিবারের এই ভূমিকা মেনে নিতে পারেননি অভিযুক্ত। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলাচ্ছেন, এই মনোভাব থেকেই তাঁদের উপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পনা করেই দু'দিনের মধ্যে একে একে সাত জনকে খুন করা হয়। প্রথমে স্ত্রী সুনীতা এবং পরে শাশুড়ি রূপবতীকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর পার্টি করার অছিলায় দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন শেখর। তাঁরা বাড়িতে পৌঁছতেই ভারী শিলনোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয় বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। পরবর্তী সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

খুনের পর দেহগুলি গাড়িতে চাপিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে চিক্কাবল্লাপুর জেলার বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। নন্দী হিলসের কাছে উদ্ধার হয়েছে সাত বছরের পুনীতের দেহ। বাকি ছ'জনের দেহের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তের গাড়ির গতিবিধি, সম্ভাব্য দেহ ফেলার জায়গা এবং ফরেন্সিক তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক, পরিবারের সদস্যরা একে একে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের খোঁজ পেতে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সুনীতা নিজেই। পরিবারের কারও সন্ধান না পেয়ে নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পর বাড়ি ফিরতেই তাঁকে খুন করেন স্বামী।

নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে পরিবারের সদস্যদের ফোনের রেকর্ড খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। সেই সূত্রেই শেখরের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে শ্রীরামপুর ও রাজাজিনগর থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের দাবি, জেরায় সাত জনকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। যদিও তাঁর বয়ান এবং হত্যাকাণ্ডের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


Share